নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ মার্চ ২০২৬ রাত ১০:৪৫:১৭
সম্পত্তির বিবরণ দিলেন আসিফ মাহমুদ
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজের সম্পত্তির বিবরণ তুলে ধরেছেন। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতার আলোচনা শুরুর পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের জবাব দিতে এমন উদ্যোগ নেন।
বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে তিনি উপদেষ্টা থাকাকালীন বেতন-ভাতা বাবদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে আমার আয় ও সম্পদের সম্পূর্ণ বিবরণী পেশ করে এসেছি। এরপরও যেহেতু এসব নিয়ে জল্পনার চেষ্টা হচ্ছে, তখন আমি মনে করছি আমার এবং আমার পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দেওয়া প্রয়োজন; যাতে বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কোনো ধরনের বিভ্রান্তি করতে না পারে।
সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) আমি শুধু আমার ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করার কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু পরে আমারসহ পরিবারের সবার ব্যাংক স্টেটমেন্ট উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিই, যাতে এই বিষয়গুলোতে আর কোনো প্রশ্ন অবশিষ্ট না থাকে।
আসিফ আরও বলেন, আমার বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এই পাঁচটি ব্যাংকে মোট ক্রেডিট আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। কিন্তু আমার বাবার সার্ভিস লোন আছে, উনি শিক্ষক হিসেবে ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন। যেটা প্রতি মাসে উনার সেলারি থেকে কেটে নেওয়া হয়। সার্ভিস লোনের এখনো পেমেন্ট বাকি আছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সুতরাং, যা ক্রেডিট আছে সেটা যদি বাদ দিই, তাহলে এখনো ৮২ হাজার ৩৫ টাকার মতো দেনায় আছেন তিনি।
তার মায়ের একটিই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, যেখানে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা আছে। এ ছাড়া আমার স্ত্রীর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, সেখানে ৬১৩ টাকা আছে। আর আমার নিজের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এর মধ্যে সোনালি ব্যাংকে আমার একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট। এই অ্যাকাউন্টে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা আছে। আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হলো আমার সেলারি অ্যাকাউন্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় যাতায়াতসহ সরকারের অন্যান্য ভাতার লেনদেন এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই হতো।
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, আমি ১৬ মাস দায়িত্বে ছিলাম। সেলারি গড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার করে ধরে ভাতাসহ অন্যান্য সব লেনদেন এই অ্যাকাউন্টেই হয়েছে। বর্তমানে এই অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা আছে। সব মিলিয়ে এই অ্যাকাউন্টে বেতনসহ মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা। আর ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে আমার দুটি অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা রয়েছে।
এর আগে আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে বিএফআইইউর পক্ষ থেকে দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংক ও অন্যান্য নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ তলবনামা পাঠানো হয়।
ব্যাংকগুলোতে পাঠানো চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের সব তথ্য নথিভুক্ত করে বিএফআইইউতে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া পৃথক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পোস্টে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সন্ধ্যা ৭টায় বাংলামোটর কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন। এ সময় তিনি তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করবেন।
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার প্রার্থিতার আলোচনা শুরু হলে ফ্যাসিস্ট এনাবলার সাকিব আল হাসানের ভক্ত পরিচয়ে একদল লোক বেনামে দুদকে কাল্পনিক দুর্নীতির অভিযোগ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট জনসমক্ষে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’