নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর ১২:৩৪:৫১
অতীতের কাসুন্দি ঘেঁটে লাভ নেই, জনগণ এখন আর ওসব শুনতে চায় না: ডা. শফিক
অতীতের কাসুন্দি ঘেঁটে লাভ নেই, জনগণ এখন আর ওসব শুনতে চায় না-বলে অভিমত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের। এ সময় তিনি বিগত শাসন আমলের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, যারা বিগত দিনে জনগণকে গালগল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল আর পেছনের দরজা দিয়ে মানুষের কপাল ও জনপদের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, তাদের জায়গা আর বাংলাদেশে হবে না। তেরো তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের যে সূচনা হবে, সেখানে অতীতের ‘পোড়া রাজনীতি’ বা ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কোনো স্থান নেই।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াত আয়োজিত
নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়,
বরং এই দেশ সকল ধর্মের মানুষের। আমরা এই দেশটাকে সব ধর্ম দিয়ে ইনশাআল্লাহ একটি ফুলের
বাগানের মতো সাজাবো।
তিনি বলেন, ধর্মের সৌন্দর্যই হলো একে অপরের সাথে চমৎকার
সম্পর্ক রক্ষা করা। বিভেদের রাজনীতি করে যারা জাতিকে টুকরো টুকরো করতে চায়, তাদের আর
সেই সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা মূলত কৃষিভিত্তিক এলাকা। আমাদের
পরিকল্পনা হলো কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে শিল্পে রূপান্তরিত করা। যাতে কৃষকের
শ্রমে ফলানো ফসল তাদের ভাগ্য বদলে দেয়।
তিনি আরও বলেন, এটি আলেম-ওলামা, মুক্তিযোদ্ধা এবং মেধাবীদের
জেলা। এখানকার মানুষ কঠোর পরিশ্রমী ও দেশপ্রেমিক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বছরের পর
বছর এই কিশোরগঞ্জের সন্তানরাই প্রশাসনের এবং সরকারের সর্বোচ্চ পদ অলংকৃত করেছেন। অথচ
এই এলাকার মানুষ কী পেয়েছে? যোগাযোগ ব্যবস্থা আজও ঝুঁকিপূর্ণ, হাওর অঞ্চলের মানুষের
কষ্ট ঘোচেনি। আপনারা নিজেরাই তার সাক্ষী।
জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ত্যাগের কথা স্মরণ করে ডা.
শফিকুর রহমান তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমাদের তরুণরা
বেকার ভাতা চায় না, তারা চায় ‘জাস্টিস’। তারা চায় মেধার মূল্যায়ন। কোনো রাজনৈতিক
প্রভাবে বা ‘লাল টেলিফোনের’
নির্দেশে যেন মেধাবীদের কপাল পুড়ে না যায়, আমরা সেই নিশ্চয়তা দেব। আমরা যুবকদের হাতে
কাজ তুলে দেব, তাদের দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ নামের যে উড়োজাহাজ, তার ককপিটে অর্থাৎ
চালকের আসনে আমরা যুবকদের বসিয়ে দেব। দেশ তারাই চালাবে, তারাই গড়বে। আর আমরা প্রবীণরা
প্যাসেঞ্জার সিটে বসে তাদের দিকনির্দেশনা দেব। এখন আর পেছনে তাকানোর সময় নেই, এখন শুধু
সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।