নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৯:৫০:১৪
ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে সেচ কার্যক্রম ও ধান কাটার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে: এনসিপি কৃষক উইং
ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে সেচ কার্যক্রম ও ধান কাটার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে এনসিপির কৃষক উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান বোরো মৌসুমে দেশের কৃষকসমাজ একযোগে বহুমুখী সংকটে পড়েছে। একদিকে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় ধানের অস্বাভাবিক কম বাজারদর এই দ্বৈত চাপে কৃষকের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সেচ কার্যক্রম ও ধান কাটার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক এলাকায় কৃষকেরা নির্ধারিত দামে ডিজেল পাচ্ছেন না; বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সময়ে ধানের বাজারমূল্য উৎপাদন ব্যয়ের নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং লোকসান গুনতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে যেমন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও একটি গুরুতর হুমকি। কৃষক যদি ধারাবাহিকভাবে লোকসানে পড়েন, তাহলে ভবিষ্যতে আবাদ কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্য উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থায়।
এনসিপির কৃষক উইং সরকারের কাছে দাবি জানায়-
১. টার্গেটেড ফুয়েল অ্যালোকেশন সিস্টেম চালু করতে হবে, যার মাধ্যমে বোরো মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেচ পাম্প ও হারভেস্টার খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
২. কৃষিখাতে ব্যবহৃত জ্বালানির জন্য ভ্যারিয়েবল সাবসিডি মেকানিজম প্রবর্তন করতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষকের ওপর তাৎক্ষণিক ব্যয়ের চাপ কমানো যায়।
৩. প্রোডাকশন কস্ট-লিঙ্কড প্রাইসিং মডেল অনুযায়ী ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করতে হবে, যেখানে বাস্তব উৎপাদন ব্যয়, ইনপুট কস্ট এবং কৃষকের ন্যূনতম লাভ নিশ্চিত করা হবে।
৪. সার সরবরাহ ব্যবস্থায় সাপ্লাই চেইন স্ট্যাবিলাইজেশন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নির্ধারিত মূল্যে সার প্রাপ্তি নিশ্চিত হয় এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়।
৫. ‘শস্য বন্ধকি ঋণ’ (Warehouse Receipt Financing) প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চালু করতে হবে, যেখানে কৃষক তার উৎপাদিত ধান অনুমোদিত গুদামে সংরক্ষণ করে তার বিপরীতে স্বল্পসুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ‘ডিস্ট্রেস সেল’ কমবে এবং কৃষক বাজারের অনুকূল সময়ে ফসল বিক্রির সুযোগ পাবেন।
৬. মিড-টার্ম এগ্রি-এনার্জি ট্রানজিশন রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে, যার আওতায় ডিজেলনির্ভর সেচ থেকে ধাপে ধাপে সৌরচালিত ও বৈদ্যুতিক সেচ ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ, ভর্তুকি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হবে।
৭. ক্রপ ইন্স্যুরেন্স এবং ইনকাম প্রোটেকশন স্কিম চালু করতে হবে, যাতে প্রাকৃতিক ঝুঁকি ও বাজার ঝুঁকি উভয়ের বিরুদ্ধে কৃষকের ন্যূনতম আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
৮. বিভাগীয় পর্যায়ে “সমবায়ভিত্তিক কৃষক সমিতি” (Divisional Co-Operative Farmers Society) এবং “প্রান্তিক মূল্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড” (Marginal Price Regulatory Board) গঠন করতে হবে, যাতে কৃষকেরা সংগঠিতভাবে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমে এবং উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হয় ও বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
এই সংকটময় সময়ে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও অপরিহার্য বলে উল্লেখ করে তারা এর তাৎক্ষণিক সুরক্ষা ও কাঠামোগত সংস্কার দুই দিকেই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।