ঈদযাত্রার প্রস্তুতি : সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় প্রস্তুত হচ্ছে ১২৭টি কোচ
ঈদ মানেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা। প্রিয়জনের সঙ্গে কোরবানির ঈদ উদযাপন করতে প্রতিবছরের মতো এবারও ট্রেনে চড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটবে লাখো মানুষ। আর সেই ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা।সকালের প্রথম আলো থেকে গভীর সন্ধ্যা—কারখানার প্রতিটি শপে যেন কর্মচাঞ্চল্যের এক ভিন্ন দৃশ্য। কোথাও ওয়েল্ডিংয়ের ঝলকানি, কোথাও রঙের প্রলেপ, আবার কোথাও চলছে যন্ত্রাংশ মেরামতের শেষ মুহূর্তের কাজ। পুরোনো কোচগুলোকে নতুন প্রাণ দিতে নির্ধারিত সময়ের বাইরেও অতিরিক্ত শ্রম দিচ্ছেন শ্রমিকরা।ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে এবার রেলওয়ের বহরে যুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত ১২৭টি কোচ। এরই মধ্যে ১০৩টি কোচ পাকশী ও লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি কোচগুলোও দ্রুত হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ২৩ শতাংশ জনবল, বাজেট সংকট ও উপকরণ স্বল্পতা নিয়েও থেমে নেই কাজ। যাত্রীসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন।কারখানার এক শ্রমিক বলেন, ঈদের সময় বাড়তি চাপ থাকে। শুক্রবার পর্যন্ত কাজ করছি। কষ্ট হলেও ভালো লাগে—আমাদের কাজের কারণেই মানুষ পরিবার নিয়ে আনন্দে ঈদ করতে যেতে পারবে।কারখানার শিডিউল শপের প্রকৌশলী রুহুল আমীন জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ১২৭টি কোচ সচল করা হচ্ছে। যাত্রীচাপ সামাল দিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে কোচ প্রস্তুতের কাজ চলছে।সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে এসব কোচ যুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১০৩টি কোচ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি কোচগুলোও কয়েক কর্মদিবসের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।রেলওয়ের এই বাড়তি প্রস্তুতিতে স্বস্তি ফিরবে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রায়—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের। আর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম যেন হয়ে উঠেছে লাখো মানুষের নিরাপদ ও আনন্দময় ঈদযাত্রার নেপথ্যের গল্প।