ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৫:২৯:৫৬
কুয়ালালামপুরে মেগা অভিযানে ৩৬৪ বাংলাদেশি আটক
২ হাজার ৫০০ বিদেশি। তল্লাশি শেষে আটক ৪৭২। আর তাদের মধ্যে ৩৬৪ জনই বাংলাদেশি। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ব্যস্ত লেবুহ পুডু ও জালান সিলাংয়ের কোতারায়া বাংলা মার্কেট এলাকায় মেগা অভিযানে বেরিয়ে এসেছে এই চমকে দেওয়ার মতো চিত্র। অভিযানে আটক বিদেশিদের প্রায় ৭৭ শতাংশই বাংলাদেশি।
বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি ও সন্দেহজনক অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে শুরু হয় মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ‘সমন্বিত মেগা আইন প্রয়োগ অভিযান’। কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ১৮ থেকে ৬২ বছর বয়সী ৪৭২ বিদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৩৯ পুরুষ ও ৩৩ নারী।
আটকদের জাতীয়তা বিশ্লেষণেও বাংলাদেশিদের আধিক্য স্পষ্ট। ৩৬৪ বাংলাদেশির পর মিয়ানমারের ৫৭, ফিলিপাইনের ৯, নেপালের ৮, ইন্দোনেশিয়ার ৭, পাকিস্তানের ৭, ভারতের ৬, চীনের ৩, জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিক আটক হয়েছেন।
অভিবাসন বিভাগের কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক পরিচালক দাতুক হামশা ইঞ্জাউ জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় নথি না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থানসহ অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযান ঘিরে লেবুহ পুডুতে তৈরি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। আইন প্রয়োগকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের আটক করতে গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ধস্তাধস্তিও হয়। কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের আবাসিক স্থাপনা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় সেগুলোর তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিতে ভবনের ওপরের তলায় সন্দেহজনক কয়েকটি স্থাপনার সন্ধান পাওয়া যায়। এগুলো পতিতাবৃত্তির আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে সন্দেহ করছে কর্তৃপক্ষ। বিদেশিদের কাছে অবৈধ ওষুধ বিক্রি করা হয় এমন একটি দোকানও শনাক্ত করা হয়েছে।
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই লেবুহ পুডু ও কোতারায়ার কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায়। কয়েকজন বিদেশি নিজেদের আড়াল করতে মুদ্রা বিনিময়কেন্দ্রে সাধারণ গ্রাহক সেজে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অভিযানে অংশ নেন ৩৩৭ কর্মকর্তা ও সদস্য। এর মধ্যে অভিবাসন বিভাগের ২১৮ জন। বাকি ১১৯ জন ছিলেন কুয়ালালামপুর সিটি হল, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সদস্য।
অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশা ইঞ্জাউ বলেন, সপ্তাহান্তে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কুয়ালালামপুরে আসেন। তাদের অনেকের বৈধ ভ্রমণ নথি ও কাজের অনুমতি রয়েছে। তবে এবারের অভিযানে তল্লাশি করা ২ হাজার ৫০০ বিদেশির মধ্যে ৪৭২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার জন্য বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
এক অভিযানে ৪৭২ বিদেশির মধ্যে ৩৬৪ বাংলাদেশি এই পরিসংখ্যানই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কাগজপত্রের ঘাটতি, অতিরিক্ত অবস্থান কিংবা অন্যান্য অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কেন একই এলাকায় পাওয়া গেল তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের বৈধতা, কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ছে। তার মধ্যেই লেবুহ পুডুর এই অভিযান বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা হিসেবে সামনে এসেছে।