মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যের কুলিমের পাদাং মেহায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ৬৩০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯৯ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। এ ছাড়া ৩৯৬ জন চীনা নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আটক করা হয়েছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নির্মাণাধীন ওই স্থাপনায় ‘অপস মেগা’ নামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ কেদাহ রাজ্য শাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিবাসন বিভাগের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখার তথ্য এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে অভিবাসন বিভাগের বিভিন্ন শাখার মোট ১৫৯ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আইন প্রয়োগ শাখা, গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখা, বিশেষ কৌশলগত দল এবং কেদাহ, পারলিস, পেরাক, কুয়ালালামপুর ও নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের কর্মকর্তারা ছিলেন।অভিযান চলাকালে মোট ৬৯৭ জন বিদেশি ও মালয়েশীয় নাগরিকের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৬৩০ জন বিদেশিকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৬২২ জন পুরুষ ও আটজন নারী।জাতীয়তাভিত্তিক হিসাবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীনের ৩৯৬ জন—৩৯১ পুরুষ ও পাঁচ নারী; বাংলাদেশের ১৯৯ জন—১৯৮ পুরুষ ও একজন নারী; পাকিস্তানের ১০ জন পুরুষ; মিয়ানমারের সাতজন পুরুষ; ভারতের পাঁচজন পুরুষ; ঘানার চারজন পুরুষ; নাইজেরিয়ার তিনজন পুরুষ; কেনিয়ার দুজন পুরুষ; ইন্দোনেশিয়ার দুজন নারী; নিউজিল্যান্ডের একজন পুরুষ এবং সেনেগালের একজন পুরুষ রয়েছেন।আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৬(১)(সি) ও ১৫(১)(সি) ধারা এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর ৩৯(বি) বিধির আওতায় বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সাক্ষীদের সহায়তা নিতে ছয়টি সমনও জারি করা হয়েছে।অভিযান চলাকালে কয়েকজন আটক ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লুকিয়ে পড়েন, এমনকি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদেও উঠে যান। এ সময় একদল আটক ব্যক্তির উসকানিমূলক আচরণে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়।প্রায় পাঁচ লাখ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত নির্মাণস্থলে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ভারী বৃষ্টির কারণে পিচ্ছিল মেঝে, জমে থাকা পানি ও কাদামাখা পথ চলাচল কঠিন করে তোলে।এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনের অসম্পূর্ণ কাঠামো, লিফটের গর্ত, উন্মুক্ত রড, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নির্মাণসামগ্রী, ভারী যন্ত্রপাতির চলাচল এবং উঁচু স্থানে কাজ করার কারণে অভিযান পরিচালনাকারীদের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ নিয়োগকর্তা, প্রধান ঠিকাদার ও উপঠিকাদারদের সতর্ক করে বলেছে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের বৈধ ভ্রমণ নথি এবং অনুমোদিত পাস বা ওয়ার্ক পারমিট থাকা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিবাসন বিভাগের নির্ধারিত সব শর্ত মেনে চলতে হবে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশটির অভিবাসন আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রতিপালনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।রোববার (১১ অক্টোবর) দূতাবাসের এক অতিজরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান পরিস্থিতি-সংক্রান্ত কোনো ধরনের তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ, আদান-প্রদান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সৌদি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।এ ছাড়া ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি-সংক্রান্ত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য প্রচার না করার পাশাপাশি মোবাইলে এসব কনটেন্ট সংরক্ষণ এবং পারস্পরিক আদান-প্রদান থেকেও সম্পূর্ণ বিরত থাকতে বলা হয়েছে।দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা যেন ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলেন। একই সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে চলাফেরা না করে সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। শ্রমসংক্রান্ত বিষয়ে ৮০০১০০০১২৫ ; পাসপোর্টসংক্রান্ত বিষয়ে ৮০০১০০০১২৬ ; এবং ডিপ্লোম্যাটিক উইং-সংক্রান্ত বিষয়ে ৮০০১০০০১২৪ ; নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।এ ছাড়া মৃত্যুসংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
২ দিন আগে
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন ‘স্কুল অব লিডারশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. গোলাম রাব্বানী নয়ন বাঙালি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাকে দেশে ফিরে নেতৃত্ব উন্নয়ন ও সমাজগঠনমূলক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।সাম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ড. গোলাম রাব্বানী প্রথাগত রাজনীতির বদলে পরিবেশ ও শিক্ষার মতো বিষয়ে দক্ষ রাজনৈতিক সমাজকর্মী তৈরি এবং গ্রামীণ চায়ের দোকানগুলোকে সামাজিক যোগাযোগের হাব হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ভিলেজ কোর্টকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ড. গোলাম রাব্বানী প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। একটি সুনির্দিষ্ট কাজের দর্শন নিয়ে শিগগিরই তিনি দেশে ফিরে এই বহুমুখী নেতৃত্ব ও কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের কাজ শুরু করতে চান।
৫ দিন আগে
বাংলাদেশিদের জন্য আবারও খুলেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রথমে গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডকে (আরএল-২০৬৮) ২৮টি চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছিলো। এবার আত-তাকওয়া ওভারসীজ লিমিডেটকে (আরএল-১৭০৩) ২৬ জন কর্মীর জন্য চাহিদাপত্র অনুমোদন দিয়েছে মালয়েশিয়ার হাইকমিশন। জানা গেছে, প্রথম ধাপে মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডের (আরএল-২০৬৮) জন্য ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছিলো বাংলাদেশ হাইকমিশন। এবার দ্বিতীয় ধাপে হাইকমিশন থেকে সত্যায়ন করা হয়েছে ২৮ কর্মীর চাহিদাপত্র। মালয়েশিয়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শরীকত পারনিগান মনজা’র চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আত-তাকওয়া ওভারসীজ লিমিডেটকে (আরএল-১৭০৩) এই অনুমোদন দেওয়া হলো।আত-তাকওয়া ওভারসীজ লিমিটেডের (আরএল-১৭০৩) ম্যানেজার মোহাম্মদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মালয়েশিয়ার হাইকমিশন থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কর্মী নিয়োগে অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় ও বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময় নতুন কর্মী প্রবেশ বন্ধ করে মালয়েশিয়া সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বন্ধ ও সংকুচিত শ্রমবাজারগুলো পুনরায় উন্মুক্ত করার ওপর জোর দেন। তিনি এ লক্ষে মালয়েশিয়া সফরও করেন। সফরকালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পথ আবার উন্মুক্ত হলো। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই শ্রমবাজারে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশিকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। তবে, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর আগে সেখানকার নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রমিক দক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। এরপর বাংলাদেশে এসে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক বাছাই করবেন তারা। গত ৪ অক্টোবর সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানিয়েছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
৫ দিন আগে