নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৫:২৮:০৪
নাহিদ রানার ফাইফারে টেনেটুনে একশ করে অলআউট পাকিস্তান
লম্বা বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনটা হল দাপটের সঙ্গেই। তিন মাসের লম্বা বিরতির পর ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে মাঠে ফিরেছেন মেহেদী মিরাজরা। ম্যান ইন গ্রিনদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে আজ মাঠে নেমেছে লাল-সবুজের দল। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মিরাজ। আর বল হাতে শুরু থেকেই তোপ দেগেছেন নাহিদ রানা। সফরকারীদের প্রথম ৫ ব্যাটারকেই আউট করেছেন তিনি। টাইগার বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৩০.৩ ওভারে ১১৪ রানেই অলআউট হয়েছে শাহিন আফ্রিদির দল।
নাহিদ রানার আগুন বোলিংয়ের কারণে দলীয় একশ রানের আগেই অল আউট হওয়ার শঙ্কায় ছিল পাকিস্তান। রানা ম্যান ইন গ্রিনদের প্রথম ৫ ব্যাটারকে আউট করার পর মিরাজ নিয়েছেন ৩ উইকেট, তাসকিন নেন ১টি। ৮২ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে তখন অল আউটের দ্বারপ্রান্তে পাকিস্তান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফরকারীদের দলীয় সংগ্রহ ১০০ পার হয়েছে ফাহিম আশরাফের প্রতিরোধী ব্যাটিংয়ের সুবাদে।
আট নম্বরে নেমে ফাহিম খেলেছেন ৪৭ বল, করেছেন ৩৭ রান। শেষ উইকেটে আবরার আহমেদের সঙ্গে ৪১ বলে ৩২ রানের জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ ১০০ পার করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হপ্যে ফিরতে হয় তাঁকে।
ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরুই পেয়েছিল পাকিস্তান। নতুন ওপেনিং জুটি মাআজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহান দ্রুত রান তুলে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন। তবে প্রথম পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে পেসার নাহিদ রানা আঘাত হানেন। ৩৮ বলে চারটি চারে ২৭ রান করা ফারহানকে ফিরিয়ে দিয়ে ৪১ রানের জুটি ভাঙেন তিনি।
১২তম ওভারে আবারও সাফল্য পান নাহিদ। অভিষিক্ত শামিল হুসেইন ৭ বলে ৪ রান করে আউট হলে ১১.৩ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৪৭। এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। ওপেনার মাআজ সাদাকাতকে ফিরিয়ে দিয়ে আবারও আঘাত করেন নাহিদ রানা। তিনি ২৮ বলে তিনটি চারে ১৮ রান করেন।
পরের ধাক্কা দেন নাহিদই। মোহাম্মদ রিজওয়ান ২০ বলে দুই চারে ১০ রান করে আউট হলে ১৫.৫ ওভারে পাকিস্তান পড়ে যায় ৪ উইকেটে ৬৪ রানে। নাহিদের পঞ্চম শিকার হন সালমান আলি আগা। ৮ বলে একটি চারসহ ৫ রান করে আউট হন তিনি। এতে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ কার্যত ভেঙে পড়ে।
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ আঘাত হানেন। আবদুল সামাদকে ৬ বলের শূন্য রানে ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলেন তিনি। ১৯ ওভারে দলটির সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৭০। পাকিস্তানের উইকেট পতন থামেনি। মিরাজ আবারও সাফল্য পান, হুসেইন তালাতকে ১৩ বলে ৪ রানে আউট করেন।
একই ওভারে অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি ক্রিজে এসে একটি চার মেরে চাপ কমানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। রান-বল সমান ৪ রান করে মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলে ২২.৫ ওভারে পাকিস্তান পড়ে যায় ৮ উইকেটে ৮১ রানে। এরপর আক্রমণে এসে তাসকিন আহমেদ প্রথম উইকেট তুলে নেন, ওয়াসিম জুনিয়রকে শূন্য রানে ফেরান।
শেষ দিকে ফাহিম আশরাফ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তার ব্যাটে ভর করে ২৬তম ওভারে ১০০ রানের গণ্ডি পার হয় পাকিস্তান।