নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ১২:৪৭:১৪
স্বাগতিক ভারতকে গুঁড়িয়ে দিলো দক্ষিণ আফ্রিকা
সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে কোনো পাত্তাই পেলো না স্বাগতিক ভারত। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো না হলেও ডেভিড মিলারের ফিফটি ও ত্রিস্তান স্টাবসের দুর্দান্ত ক্যামিওতে ১৮৭ রানের সংগ্রহ পায় প্রোটিয়ারা। জবাব দিতে নেমে নিজেদের ঘরের মাঠে ভালো শুরু করতে পারেনি ভারতও। স্কোরবোর্ডে ৫১ রান জমা করতেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে টিম ইন্ডিয়া। শেষ পর্যন্ত জেনসেন-মহারাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। আর তাতেই ৭৬ রানের বড় জয়ে সুপার এইট পর্ব শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
আহমেদাবাদে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। স্কোরবোর্ডে মাত্র ২০ রান জমা করতেই টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে বসে প্রোটিয়ারা। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন ডেভিড মিলার। একাই কচুকাটা করতে থাকেন ভারতীয় বোলারদের। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে নিয়ে গড়লেন ৯৭ রানের জুটি। ২৯ বলে ৪৫ রান করে ব্রেভিস ফিরলে ভাঙে তাদের জুটি। আর মিলার ফেরেন ৩৫ বলে ৬৩ রান করে। শেষ দিকে ২৪ বলে ৪৪ রানের ক্যামিও খেলেন ত্রিস্তান স্টাবস।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইশান কিশানের উইকেট হারায় ভারত। পরের ওভারের প্রথম বলে তিলক ভার্মাকেও হারায় তারা। পাওয়ার প্লেতে ৩১ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত।
ওয়াশিংটন সুন্দর ও সূর্যকুমার যাদবও এদিন থিতু হতে পারেননি উইকেটে। সুন্দর আউট হন ১১ বলে ১১ রান করে। আর অধিনায়ক সূর্যকুমার ফেরেন ২২ বলে ১৮ রান করে।
হার্দিক পান্ডিয়া, রিঙ্কু সিংও হাল ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। দলীয় ৮৬ রানে হার্দিক পান্ডিয়াকে ফেরান কেশভ মহারাজ। তার এক বল পরেই রিঙ্কু সিংয়ের উইকেটও তুলে নেন এই স্পিনার। একশ’র আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে ভারত।
এক প্রান্ত আগলে রেখে একাই লড়াই চালান শিভম দুবে। শেষ পর্যন্ত তিনি আউট হন ৩৭ বলে ৪২ রান করে। পরের বলেই জসপ্রীত বুমরাহ আউট হলে ১১১ রানেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস। প্রোটিয়াদের হয়ে মার্কো জেনসেন শিকার করেন ৪ উইকেট। এছাড়া কেশভ মহারাজ ৩টি, কর্বিন বোশ ২টি ও এইডেন মার্করাম নেন ১টি উইকেট।
টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি প্রোটিয়ারা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জসপ্রীত বুমরাহকে মারতে গিয়ে বলের লাইন মিস করেন কুইন্টন ডি কক। দলীয় ১০ রানের মাথায় ডি কক ফেরেন বোল্ড হয়ে। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে ৬ রান।
পরের ওভারেই এইডেন মার্করামকে ফেরান আর্শদীপ সিং। ৭ বলে ৪ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার। এর পরের ওভারে রায়ান রিকেলটনের উইকেট তুলে নেন বুমরাহ। ৭ বলে ৭ রান করে শিভম দুবের হাতে ক্যাচ তুলে দেন রিকেলটন। দলীয় ২০ রানেই তারা হারায় ৩ উইকেট।
বিপদের সময় দলের হাল ধরেন ডেভিড মিলার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। দুজনে মিলে যোগ করলেন ৫০ বলে ৯৭ রান। ১৩তম ওভারে শিভম দুবের বলে অভিষেক শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্রেভিস ফিরলে ভাঙে তাদের জুটি। ফেরার আগে ২৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার।
এরপর মিলারও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ভরুন চক্রবর্তীর বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারির কাছে ধরা পড়েন তিলক ভার্মার হাতে। ফেরার আগে অবশ্য ৩৫ বলে ৬৩ রানের দারুণ একটা ইনিংস খেলেছেন তিনি।
এরপর মার্কো জেনসেন ও কর্বিন বোশ দ্রুত ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকা সচল রাখেন ত্রিস্তান স্টাবস। ৩ ছক্কা ও ১ চারে ২৪ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার। আর তাতেই ১৮৭ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় আফ্রিকা। ভারতের হয়ে জসপ্রীত বুমরাহ নেন ৩ উইকেট। এছাড়া আর্শদীপ সিং নেন ২ উইকেট। ভরুন চক্রবর্তী ও শিভম দুবে নেন ১টি করে উইকেট।