নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:০৯:২৪
৫২ বছরের অপেক্ষা: বিশ্বকাপের দোরগোড়ায় কঙ্গো
১৯৭৪ সাল—বিশ্ব রাজনীতিতে তখন রিচার্ড নিক্সনের পদত্যাগ আর বক্সিং রিংয়ে মোহাম্মদ আলীর ‘রাম্বল ইন দ্য জঙ্গল’ লড়াইয়ের উত্তাপ। সেই বছরই শেষবার ‘জাইর’ নামে বিশ্বমঞ্চে দেখা গিয়েছিল ডিআর কঙ্গোকে। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর আবারও সেই মাহেন্দ্রক্ষণ কড়া নাড়ছে দেশটির ১১ কোটি মানুষের দরজায়। জ্যামাইকাকে হারাতে পারলেই ২০২৬ বিশ্বকাপে আফ্রিকার দশম প্রতিনিধি হিসেবে নাম লেখাবে তারা।
১৯৭৪ সালের সেই বিশ্বকাপ অভিযান কঙ্গোর জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৯-০ গোলে হার এবং ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে ডিফেন্ডার মুয়েপু ইলুঙ্গার সেই অদ্ভুত ফ্রি-কিক কিক করার ঘটনা আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম 'বিচিত্র' মুহূর্ত হয়ে আছে। বোনাস না পাওয়া এবং তৎকালীন স্বৈরশাসক মবুতু সেসে সেকোর হুমকির মুখে সেই দলের পারফরম্যান্স ভেঙে পড়েছিল। বর্তমান প্রজন্ম সেই কালো অধ্যায় মুছে নতুন ইতিহাস লিখতে চায়।
বার্নলির ডিফেন্ডার অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে এবং ওয়েস্ট হ্যামের অ্যারন ওয়ান-বিসাকার মতো ইউরোপে জন্ম নেওয়া ও খেলা ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্ত করা কঙ্গোর এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। দলের ২৬ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৮ জনই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জন্মেছেন। কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রে এই বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে কঙ্গোকে এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছেন।
দেশটির পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩-এর সাথে চলমান সংঘাতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। কঙ্গোর খেলোয়াড়রা গত আফকন-এ জাতীয় সংগীতের সময় মুখে হাত দিয়ে এবং মাথায় বন্দুকের নিশানা করে শান্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন। বুকুভুর এক সমর্থক ফ্রেডি জানান, "এখানে রাতে বের হওয়া মানেই মৃত্যু। তবুও মানুষ ঘরে বসে ফুটবলে একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করে। এই জয় আমাদের জীবনে একটু হলেও স্বস্তি আনবে।"
বাছাইপর্বে সেনেগালের পেছনে থেকে দ্বিতীয় হওয়ার পর ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়ার মতো পরাশক্তিদের হারিয়ে এই প্লে-অফ ফাইনালে উঠেছে ডিআর কঙ্গো। জ্যামাইকাকে হারাতে পারলে তারা সরাসরি পা রাখবে পর্তুগাল, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়ার গ্রুপে।
সাবেক অধিনায়ক গ্যাব্রিয়েল জাকুয়ানির ভাষায়, "এটি আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। আমরা কেবল অংশগ্রহণ করতে চাই না, আমরা ইতিহাস গড়তে চাই।"