নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০:৩৩:৩১
রাজধানীর পল্লবীতে গুলি করে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় সন্ত্রাসী ল্যাংড়া রুবেলসহ ৫ জন গ্রেফতার
রাজধানীর পল্লবীতে গুলি করে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ‘ল্যাংড়া রুবেল’ নামে পরিচিত এক সন্ত্রাসীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
১২ আগস্ট বুধবার ডিএমপি এক বার্তায় জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ‘ল্যাংড়া রুবেল ওই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী।
পল্লবীতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্তে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ল্যাংড়া রুবেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্যের কারণ, অস্ত্রের উৎস এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. নুরুল চৌধুরী (৪০) নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা-রমনা বিভাগ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর উত্তরা বিভাগের ভূইয়াবাড়ি বাঁশতলা সড়কের সানডে-সোসাইটি আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রটির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের পর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় নুরুল চৌধুরীর কাছ থেকে দুটি ওয়াকিটকি, দুটি চার্জার, একটি ভুয়া পাসপোর্ট, সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয়যুক্ত একটি ভুয়া পরিচয়পত্র, র্যাবের কর্নেল পদমর্যাদার উপপরিচালক পরিচয়যুক্ত একটি ভুয়া পরিচয়পত্র, তিনটি মুঠোফোন, সেনাবাহিনীর ১০ ধরনের পোশাক, চিকিৎসা বই, বিভিন্ন ফরম ও প্যাড, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয়যুক্ত পোশাক পরা ছবি, ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং চাকরির আবেদন ফরম উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নুরুল চৌধুরী সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিলেন। কখনো ‘মেজর আল মামুন’, কখনো ‘কর্নেল নাজিম’ আবার কখনো ‘মেজর তানভীর’ পরিচয়ে সেনাবাহিনীতে সৈনিক, রাঁধুনি, পিয়ন ও বাবুর্চি পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন তিনি।
চাকরিপ্রত্যাশী বেকার যুবক, রিকশাচালক, শ্রমিক ও দিনমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষ ছিল এ চক্রের অন্যতম টার্গেট। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফরম, পরিচয়পত্র, সামরিক পোশাক এবং বিভিন্ন বাহিনীর পোশাক পরা ছবি ব্যবহার করা হতো।
ডিবি আরও জানায়, কখনো এসবি-ডিবির সদস্য আবার কখনো ‘পুলিশ সুপার তারিকুর রহমান’ পরিচয় ব্যবহার করেও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো, ব্ল্যাকমেইল এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে নুরুল চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
তার বিরুদ্ধে শাহআলী থানায় ইতোমধ্যে প্রতারণার মামলা রয়েছে। নতুন করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ডিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা মুঠোফোন, ভুয়া পরিচয়পত্র, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, পোশাক ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।