ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৭:৫০:৩৮
ময়মনসিংহে মামলা প্রত্যাহারের না করায় ফিশারি ব্যবসায়ীর ওপর হামলার অভিযোগ
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের না করায় ফিশারি ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সরকারি ৮ জনের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্তরা হলেন- মূলাবাড়ী এলাকার মো. আক্কাস আলী ওরফে আকাশ মিয়া (৫২), তাওহিদ হোসেন রবিন (৩০), নাজিম উদ্দীন (৫২), গোলাম মোস্তফা (৩৫), ফজলুল হক (৩২), অন্তর মিয়া (২২), সাইদুল ইসলাম ওরফে তুলা মিয়া (৪৬) ও ইউনুছ আলী সরকার (৫৮)।
উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের মূলাবাড়ী এলাকায় গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফিশারি ব্যবসায়ী মো. আল আমিন সরকার (৩১) তারাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে আল আমিন সরকার উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে তার পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। এর আগে ফিশারিতে বিষ প্রয়োগসহ বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে অভিযুক্তরা দা, লোহার রড ও বাঁশসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিশারি এলাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় তারা দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য আল আমিনকে চাপ দিতে থাকেন এবং গালিগালাজ ও হুমকি দেন।
বাদীর দাবি, তিনি প্রতিবাদ করলে ৩ নম্বর অভিযুক্ত নাজিম উদ্দীনের হুকুম ও প্ররোচনায় অন্যরা তাকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হন। পরে তার কাছ থেকে প্রায় ১৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি ইনফিনিক্স মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার পর অভিযুক্তরা ফিশারির পাশে থাকা টিনের ঘরে ভাঙচুর চালান। সেখান থেকে ৩৫ বস্তা মাছের খাদ্য, যার আনুমানিক মূল্য ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা; একটি মাছের অক্সিজেন সিলিন্ডার, মূল্য প্রায় ১৮ হাজার টাকা; একটি সিলিং ফ্যান, মূল্য প্রায় ৩ হাজার টাকা এবং ২৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের দুই-হর্সপাওয়ার মোটর নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের টিনের ঘরও ভাঙচুর করে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আল আমিন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মামলা করলে তাকে খুন করে লাশ গুম করা এবং ফিশারিতে বিষ প্রয়োগের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।