মোঃ রনি শেখ, টঙ্গীবাড়ী (মুন্সীগঞ্জ) থেকে
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:২৭:১৬
টঙ্গীবাড়ীতে নেই কোন পশু জবাইখানা, পরীক্ষা ছাড়াই চলছে পশু জবাই ও মাংস বিক্রি
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কোথাও নেই কোন পশু জবাইখানা, সরজমিনে উপজেলার টঙ্গীবাড়ী,বালিগাও, বেতকা, দিঘীরপাড়, হাসাইল, আলদী সহ বিভিন্ন বাজারগুলোতে মাংস ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে পশুর কোন রকম স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই চলছে পশু জবাই ও মাংস বিক্রি এতে একদিকে যেমন আছে স্বাস্থ্য ঝুকি অন্যদিকে মাংস ক্রেতাওর প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী উপজেলায় নিয়োজিত ভেটেরিনারি সার্জন কিংবা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সনদ নিয়ে নির্ধারিত পশু জবাইখানায় পশু জবাই করতে হবে, কিন্তু পশু জবাইখানার অভাবে তা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্রেতারা উচ্চমূল্য দিয়েও ভেজালমুক্ত মাংস কেনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলার সোনারং গ্রামের শেখ সাব্বির( ৩৫) বলেন, ভোররাতে সবার অগোচরে গরু-ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়। ফলে আমরা কী সুস্থ নাকি অসুস্থ, পশুর মাংস টাকা দিয়ে কিনে খাচ্ছি তা কেউই আমরা জানি না।
গবাদি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ছাড়পত্র চিকিৎসক দিয়েছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলার টঙ্গীবাড়ী বাজারের নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক গরুর মাংস বিক্রেতা বলেন, মাংস দেখলেতে বুঝা যায় এগুলো সুস্থ্য গরুর মাংস আমরা ভেজাল কোন কাজ করিনা।
এ বিষয়ে উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমি টঙ্গীবাড়ী বাজারের প্রায়সবগুলো মাংসের দোকানে গিয়েছি এবং তাদের সাথে কথা বলে জনাতে পেরেছি পশুগুলো তারা মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চুরাইন গ্রামে জবাই করে টঙ্গীবাড়ী বাজারে নিয়ে এসে বিক্রয় করেন, তাদের দেয়া তথ্য মতে চুরাইন গিয়ে যেখানে তারা পশু জবাই করেন সেখানে রোগাক্রান্ত কয়েকটি গরু দেখতে পেয়েছি এবং তাদের অনুরোধ করেছি যেন তারা রোগাক্রান্ত গরুগুলো জবাই করে মাংস বিক্রয় না করেন।
জানতে চাইলে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন কালী শঙ্কর পাল বলেন, আমাদের এখানে কোন পশু জবাইখানা নেই, আমি চাই পশু জবাই করার আগে একজন চিকিৎসক তার স্বাস্থ্য পরিক্ষা করে সার্টিফিকেট দিবে, তারপর একজন ইমাম এটা জবাই করবে তারপর মানুষ সেই মাংস গ্রহণ করুক
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন,বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।