শামীম আহমেদ জয়, মতলব উত্তর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ০১:২৯:১০
মতলব উত্তরে শুরুতেই গলদ, সুফল নিয়ে শঙ্কা
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল কর্মসূচির শুরুতেই শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। মতলব উত্তর উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে এসব অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁরা সরকারি বিধি অনুযায়ী শিশুদের জন্য মানসম্মত খাবার সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে সপ্তাহে পাঁচ দিন মিড ডে মিল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় কর্মসূচি চালুর শুরুতেই নিম্নমানের খাবার, রুটিন অনুযায়ী খাবার না পাওয়া, এমনকি কিছু ক্লাস্টারে খাবার সরবরাহ না করার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে কর্মসূচির সুফল নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মতলব উত্তর উপজেলার ১১৮ টি প্রাইমারি স্কুলে ২৬ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী সপ্তাহে পাঁচ দিন ‘পুষ্টিকর’ খাবার পাওয়ার কথা। নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী প্রতি রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার বনরুটি (১২০ গ্রাম) ও সেদ্ধ ডিম (৬০ গ্রাম), সোমবার বনরুটি ও ইউএইচটি দুধ (২০০ গ্রাম) এবং মঙ্গলবার ফর্টিফায়েড বিস্কুট (৭৫ গ্রাম) ও মৌসুমি ফল বা কলা (১০০ গ্রাম) দেওয়ার কথা।
মতলব উত্তর উপজেলার হানিরপাড় ৪৮ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দশানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়র শিক্ষার্থীরা প্রথম দিন শুধু ডিম পেয়েছে।সাতবাড়িয়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় দ্বিতীয় দিনে পেয়েছে শুধু রুটি,দশানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিলারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালতলী সরকারের প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইন্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, রুটিন অনুযায়ী খাবার সরবরাহ হয়নি। যে খাবার দেওয়া হয়েছে, তার মানও ছিল নিম্নমানের। রুটি ছিল শক্ত ও নিম্নমানের, আর কলা ছিল পচা এবং আধাপাকা । সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের জন্য পচা এবং আদা পাকা কলা সরবরাহ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে মতলব উত্তরের প্রাথমিকের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল বাতেন বলেন,আমার বিদ্যালয়ে ২০৮ জন শিক্ষার্থী। ২৯ তারিখ ১৮০ জনের জন্য ডিম ও রুটি পেয়েছি। ৩০ তারিখ শুধু রুটি পেয়েছি, তারপর আজ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা বলছেন, তাদেরকে নিম্নমানের কলা দেওয়া হয়েছে।
দশানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান জানান, প্রথম দিন আমরা শুধু ডিম পেয়েছিলাম, পরবর্তী দিনে তারা আমাদের প্রথম দিনের রুটিসহ সরবরাহ করে গেছে।
জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশার প্রোগ্রাম ম্যানাজার তসনিম আলম বলেন, “আমরা মতলব উত্তর উপজেলায় মিড ডে মিলের রুটি,কলা ও ডিম সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছি। প্রথম দিন খাবার বিতরনে কিছু সমস্যা হয়েছে পরবর্তীতে আমরা সেটা সমাধান করেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হারুনুর রশিদ বলেন বলেন, ফর্টিফায়েড বিস্কুট ও ইউএইচটি দুধের এখনো টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে।কলা রুটি ডিম এর বিষয়টা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।
প্রসঙ্গত, দেশের ৬২ জেলার ১৫০টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকার মিড ডে মিল কর্মসূচি চালু করছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী পুষ্টিকর খাবার পাবে।