মোঃ ওয়াজেদ আলী, সিনিয়র গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬ বিকাল ০৫:৫৯:৪১
জনবল সংকটে অচল মহিমাগঞ্জ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
প্রায় ৪৩১ দশমিক ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ কেন্দ্রটিতে আধুনিক অবকাঠামো, অস্ত্রোপচার কক্ষ, ওয়ার্ড, কেবিন, ডরমেটরি, বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিকল্প জেনারেটর সুবিধা থাকলেও চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কোনো সেবাই মিলছে না। ফলে কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও ওটি মেশিন দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের কক্ষগুলো প্রায় ফাঁকা পড়ে রয়েছে। শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও নেই কোনো চিকিৎসক বা কার্যকর সেবা কার্যক্রম। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে মাত্র একজন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ এখানে প্রায় ২০ জনেরও বেশি জনবল থাকার কথা।
হাসপাতাল সংলগ্ন ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান বলেন, “হাসপাতাল উদ্বোধনের পর থেকে কোনো ডাক্তার-নার্স দেখি নাই। আমরা কোনো চিকিৎসাসেবা পাই না।”
সেবা নিতে আসা ইয়াকুব ইসলাম জানান, “মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নে আমাদের একমাত্র ভরসার জায়গা এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। কিন্তু এখানে না আছে ডাক্তার, না আছে ওষুধ। তাহলে সরকারের এত টাকা খরচ করার কী দরকার?”
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতাল নির্মাণের সময় তারা আশাবাদী ছিলেন যে গর্ভবতী মা ও শিশুদের চিকিৎসার জন্য আর দূরে যেতে হবে না। কিন্তু দীর্ঘদিনেও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এখন এলাকাবাসীর হতাশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
ল্যাব টেকনিশিয়ান আয়শা সিদ্দিকা বলেন, “আমি কাজ করতে চাই। কিন্তু জনবল ও ওষুধ না থাকায় কোনো কাজ করতে পারছি না। সকাল ৯টায় হাসপাতাল খুলি, বিকেল ৪টায় চলে যাই। এখানে কার্যত কোনো কাজ নেই।”
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল জলিল বলেন, “জনবল সংকটের কারণেই এই সমস্যাগুলো হচ্ছে। কয়েক মাস ধরে ওষুধেরও কোনো সরবরাহ নেই। জনবলের বিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ দিয়ে মহিমাগঞ্জ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করা হোক। অন্যথায় সরকারের কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি অচিরেই সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।