হীরা আহমেদ জাকির, নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ মে ২০২৬ সকাল ১১:১৬:২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাদকের রমরমা ব্যবসা
ভারতের সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও চোরাচালানের কার্যক্রম বিস্তার লাভ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যকে ম্যানেজ করেই জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে চলছে মাদক ব্যবসা।
জেলার বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলা মাদক ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র, এসব এলাকায় ১হাজারেরও বেশি স্পটে নিয়মিত মাদক বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিদিন বিকেলের পর শহর থেকে অনেকেই মোটরসাইকেলে করে এসব এলাকায় এসে মাদক সেবন করে এবং সঙ্গে করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসার সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা এবং অসাধু চক্র জড়িত রয়েছে। ফলে শহর-গ্রাম, হাট-বাজার, মুদির দোকান, রাস্তা-ঘাট, মাঠ ও অলিগলিতেও প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে।
এছাড়াও সড়কপথে মাছবাহী ট্রাক, বিভিন্ন পণ্যবাহী পরিবহন, বিলাসবহুল গাড়ি, বাস ও কভার্ডভ্যানের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাদক পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কঠোর নজরদারি ও অবৈধব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সীমান্তবর্তী এই জেলায় মাদক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
বিজয়নগর উপজেলায় একটি মাদক বিরোধী সমাবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া৩ (সদর বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন,মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং পুরো প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা মানবতার শত্রু এবং অর্থের লোভে তারা যেকোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে।বিজয়নগরকে মাদক ও অনলাইন জুয়ামুক্ত করতে প্রতিটি ইউনিয়নে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী সমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আব্দুর রউফ বলেন, মাদক নির্মূল করা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়; এ জন্য সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ইতোমধ্যে মাদকের স্পট চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যুবসমাজকে সংগঠিত করে মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠনের কাজ চলছে, যা মাদক নির্মূলে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কেউ হুমকির শিকার হলে, হুমকিদাতা যত শক্তিশালীই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুলিশ সবসময় জনগণের পাশে থাকবে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক ফয়েজ আহাম্মদ জানান,সীমান্তবর্তী বিজয়নগর কসবা এবং আখাউড়া উপজেলার এলাকাগুলোর মানুষ কোনো না কোনো ভাবে মাদকের সঙ্গে জড়িত,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।