শামীম আহমেদ জয়, মতলব উত্তর প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬ রাত ০৮:৩১:২৮
মতলব উত্তরে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, লণ্ডভণ্ড বিভিন্ন এলাকা—বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলায় হঠাৎ আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্বল্প সময়ের ঝড় হলেও তীব্র দমকা হাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, গাছপালা ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।
ঝড়ের তাণ্ডবে আম, লিচু, ভুট্টা, ধান ও পাটসহ উঠতি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সড়কের ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়কগুলোতে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে নির্মিত প্যান্ডেলও ঝড়ে সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। আকস্মিক ঝড়ে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে সাজসজ্জা ও প্রস্তুতি। তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রশাসনের উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হয়েছে।
কালবৈশাখীর আঘাতে বড় বড় গাছ ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে জনজীবনে নেমে আসে ভোগান্তি। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ডিজিএম এমডি ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট টিম কাজ করছে এবং গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
কলাকান্দা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউপি বিএনপির সাবেক সভাপতি মোসলেম উদ্দিন মোল্লা বলেন, “ঝড়ের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেছি। গাছপালা, বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানান, ঝড়ে গাছপালার ক্ষতি হলেও বোরো ধানের বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। কিছু সবজির ক্ষতি হয়েছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক থেকে দ্রুত গাছ অপসারণ ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।