অল্প পিচে দায়সারা কাজ, হার্ড শোল্ডারও বেহাল—ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ
রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ০১:২৩:৪২
বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ
বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের নামে দায়সারা কাজ করে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পথ তৈরি করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরিমাণ পিচ ও উপকরণ ব্যবহার না করেই কোনো রকমে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। ফলে সংস্কার শেষ হওয়ার আগেই কোথাও কোথাও পিচ উঠে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই নিম্নমানের কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না—তা খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ কাজের মান তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ও বেহাল হার্ড শোল্ডার সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। কিন্তু চলমান সংস্কারকাজে গুরুত্বপূর্ণ এসব অংশ যথাযথভাবে সংস্কার না করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নতুন করে পিচ দেওয়ার পরও কয়েকটি স্থানে তা উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়কের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে ভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করছেন চালকেরা।
প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি অর্থ খরচ করে সংস্কার করা সড়ক যদি অল্প সময়ের মধ্যেই আবার নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সেই সংস্কারকাজের দায় নেবে কে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে বাড়ছে। তাঁদের দাবি, শুধু কাগজে-কলমে কাজ শেষ দেখানো নয়, বাস্তবে কাজের মান নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁরা মহাসড়কের সংস্কারকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন, ব্যবহৃত পিচ ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা, কাজের পরিমাণ ও ব্যয়ের হিসাব যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ঠিকাদারের কাজের মান যদি নিম্নমানের হয়, তাহলে তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কীভাবে তা অনুমোদন করছেন? আর যদি কর্মকর্তাদের তদারকিতেই কাজ চলে, তাহলে সংস্কারের পরপরই পিচ উঠে যাওয়ার দায় কার?
তবে সংস্কারকাজে অনিয়ম, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার কিংবা ঠিকাদার ও সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।