নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬ রাত ১০:৫৪:৪৯
কালকিনিতে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে প্রসূতির মৃত্যু, মহাসড়ক অবরোধ ও ক্লিনিকে ভাঙচুর
নিহত তন্নী খান ডাসার উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া খানবাড়ির জিয়া উদ্দিন খানের মেয়ে। তার স্বামী আল আমিন হাওলাদার পেশায় প্রাইভেটকারচালক। প্রায় দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৭টার দিকে প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে তন্নী খানকে কালকিনির ভুরঘাটা এলাকার নূর জেনারেল হাসপাতাল (নূর ক্লিনিক)-এ ভর্তি করা হয়। সকাল ১০টার দিকে ক্লিনিকটির চিকিৎসক ডা. ইশরাত জাহান ঐশি ও ডা. হিমেল মাহমুদ তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অসাবধানতায় রোগীর শরীরের গুরুত্বপূর্ণ নাড়ি কেটে যায়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনদের দাবি, বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তন্নীর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভুরঘাটা এলাকায় অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা নূর ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায়।
খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইশরাত জাহান ঐশি ও ডা. হিমেল মাহমুদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।