আশরাফুল ইসলাম রাজন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৯ মে ২০২৬ রাত ০৯:৫৪:২৫
রাশিয়ায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত কিশোরগঞ্জের যুবক
নিহত মো. রিয়াদ রশিদ (২৮) উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা এবং জাফরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
সূত্র জানায়, শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রিয়াদের বন্ধু লিমন দত্ত মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পরিবারকে জানান। লিমন নিজেও রাশিয়ায় একই ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন এবং ওই ড্রোন হামলায় একটি পা হারিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লিমনের বরাত দিয়ে পরিবার জানায়, গত ২ মে রুশ সীমান্ত এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন হামলা চালায়। এতে রিয়াদসহ দুই বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হন। এছাড়া আরও তিনজন আহত হন। শুক্রবার পরিবারের সদস্যরা রিয়াদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন।
পরিবারের দাবি, রিয়াদ রশিদ গত বছরের অক্টোবরে একটি কোম্পানিতে কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান। পরে গত ৭ এপ্রিল তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তাঁর ব্যাচ নম্বর ছিল ৭৩৫। তবে সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়টি পরিবার আগে থেকে জানত না।
ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন বাবা আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, “সে যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তা আমাদের জানায়নি। জানলে আমি কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় সব শেষ হয়ে গেছে। আমি আমার ছেলের লাশেরও সন্ধান পাচ্ছি না। বাবা হিসেবে এই কষ্ট কীভাবে সহ্য করব?”
রিয়াদের চাচাতো ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, গত ২৮ এপ্রিল পরিবারের সঙ্গে রিয়াদের শেষ কথা হয়। ২৯ এপ্রিল রাত ১০টা পর্যন্ত তাঁকে মেসেঞ্জারে অনলাইনে দেখা গিয়েছিল।
এ বিষয়ে জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি নিহত ব্যক্তির পরিবারের খোঁজ নিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক সহযোগিতার সুযোগ থাকলে আমরা অবশ্যই তার ব্যবস্থা করব।”
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির বলেন, পুলিশ রিয়াদ রশিদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।