ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১ আগস্ট ২০২৬ বিকাল ০৪:৫৪:০৭
ফুলপুরে ২০ বছরে ধরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল: চরম দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার পয়ারী ইউনিয়নে প্রায় ২০ বছর ধরে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল করছেন ১০ গ্রামের মানুষ। উপজেলার গড়পয়ারী ও গুপ্তেরগাঁও গ্রামের মধ্যবর্তী কালিবাড়ি ঘাটে খরিয়া নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবত এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা নিজেদের অর্থায়নে তৈরি ওই বাঁশের সাঁকো। বর্তমানে সাঁকোটির একাংশ ভেঙে যাওয়ায় ছোট যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে জনদুর্ভোগ পড়েছে এলাকাবাসী । আগে এখানে খেয়া নৌকায় নদী পার হতে হতো। যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রায় ২০ বছর আগে উভয় পাড়ের বাসিন্দাদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে বাঁশের খুঁটি ও চাউগাছের ফালি দিয়ে অস্থায়ী সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে রিকশা, অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন ও পথচারীরা এই সাঁকো দিয়েই পারাপার হচ্ছেন। বাঁশ ও চাউগাছের ফালি ব্যবহারের কারণে সাঁকোটি কিছুদিন পরপরই ভেঙে পড়ে। পরে গ্রামবাসী নিজস্ব অর্থায়নে বছরে কয়েকবার এটি মেরামত করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁকোটির একাংশের পাটাতন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকমে পারাপার হচ্ছেন। কিন্তু রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যানগাড়ি এসে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
গুপ্তেরগাঁও গ্রামের আবুল বাশার বলেন, পয়ারী ইউনিয়নের সাহাপুর, মাহমুদপুর ও গুপ্তেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দাদের ইউনিয়ন পরিষদে যেতে এবং শিক্ষার্থীদের পয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতে এই সাঁকোটিই ব্যবহার করতে হয়। সাহাপুর, মাহমুদপুর, গুপ্তেরগাঁও, দর্জি পয়ারী, হরিনাদি ও শুনই গ্রামসহ প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে যাওয়ার সংক্ষিপ্ত রাস্তা এটি। সাঁকোর একাংশ নষ্ট হওয়ায় এখন প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
গড়পয়ারী গ্রামের হারুণ অর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক নেতারা এখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গুপ্তেরগাঁও গ্রামটি শাকসবজি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ। কিন্তু স্থায়ী সেতু না থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত ৫ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। এতে বাড়তি পরিবহন ভাড়া গুনতে গিয়ে কৃষকরা লোকসানের শিকার হচ্ছেন।
পার্শ্ববর্তী ১০ গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ ও কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে গড়পয়ারী ও গুপ্তেরগাঁও গ্রামের মধ্যবর্তী খরিয়া নদীর ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, পয়ারী কালিবাড়ি থেকে গুপ্তেরগাঁওগামী সড়কটির উন্নয়ন ও নদীতে একটি সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সড়ক ও অস্থায়ী সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাস্তার উন্নয়ন ও খরিয়া নদীর ওপর ৯৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠানো হয়েছে।