নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬ বিকাল ০৫:০৩:৪৮
বিদেশি অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিনসহ গ্রেপ্তার ২
বিদেশ থেকে পরিচালিত অনলাইন জুয়া বা বেটিং সাইটের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার দুজনের একজন রাশিয়া থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নড়াইলের দুর্গাপুর এলাকার সৈয়দ জামান (২৭) এবং যশোরের চৌগাছা উপজেলার জামিরা এলাকার রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী (২৮)। গত ১৯ আগস্ট রাজশাহী ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানায়, ১৯ আগস্ট দুপুরে রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকা থেকে সৈয়দ জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডির নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় দেশের ভেতর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং সাইটের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে বেটিং ও অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার তথ্যও পাওয়া যায়।
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে বেটিং সাইটে যুক্ত করতেন। এসব হিসাব ও নম্বরের মাধ্যমে জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ ও উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হতো।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করতেন সৈয়দ জামান। তিনি নিজ নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম সক্রিয় করার পাশাপাশি বিভিন্ন এজেন্টের সিম সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে যুক্ত করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা কমিশন নেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করতেন। গ্রেপ্তার দুজন অনলাইন জুয়া সাইটের অর্থ জমা ও উত্তোলন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
এ ঘটনায় গত ১৭ মে পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে প্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইন বেটিং সাইটে ব্যবহৃত এজেন্ট নম্বরের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা হয়।
একই মামলায় এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে সিআইডি। গত ৭ জুন টাঙ্গাইলে তিনজন, ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে তিনজন এবং ১২ জুলাই নড়াইলে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অনলাইন বেটিং সাইটের পরিচালনাকারী, এজেন্ট, অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত এমএফএস ও ব্যাংক হিসাবের মালিক এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তে কাজ চলছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে লেনদেন করা অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার দুজনকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। অনলাইন জুয়া ও বেটিং থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি।