নবীনগরে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিলেন ৪,৪৭৪ শিক্ষার্থী
মো. আলমগীর হোসেন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৫:৩৫:২৯
নবীনগরে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিলেন ৪,৪৭৪ শিক্ষার্থী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীদের। উপজেলার ১১টি কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ৪৭৪ জন শিক্ষার্থী এ দুর্ভোগের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয়।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ কেভি লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পরীক্ষার সময় কেন্দ্রগুলোতে অন্ধকার নেমে আসে।
নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা এবং নারায়ণপুর ডিএস কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা মোমবাতির আলোয় উত্তরপত্র লিখছে।
অপর্যাপ্ত আলোয় পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অনেকেই ঠিকমতো লিখতে না পারার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ বছর নবীনগর উপজেলায় এসএসসির ৮টি, দাখিলের ২টি এবং ভোকেশনালের ১টি—মোট ১১টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৪৭৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরীক্ষাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা। তারা বিকল্প ব্যবস্থার অভাবকে গাফিলতি হিসেবে দেখছেন।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তারের ওপর গাছের ডালপালা পড়ে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে মোমবাতি ও চার্জলাইটের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবদুল ওয়াদুদ হোসেন জানান, ৩৩ কেভি লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে এবং শিগগিরই বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।