ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬ রাত ০৮:০২:৩৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৫ গ্রামের বাসিন্দাদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের অন্তত ১৫ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ চলে প্রায় সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ও মানিকদহ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে রোববার সকালে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে মানিকদহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর ও হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেয়। পরে কয়েক হাজার গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভাঙ্গা থানা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পরে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে পুলিশের সার্কেলের একজন কর্মকর্তা, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, কয়েকজন পুলিশ সদস্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাংবাদিকসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।"
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।