খন্দকার মো. আলমগীর হোসেন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬ রাত ১১:৫৩:১৩
নবীনগরে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
নিহত ইকবাল হোসেন উপজেলার টিয়ারা গ্রামের মুন্সি বাড়ির মৃত আবুল খায়েরের ছেলে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বাজার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে টিয়ারা গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন এবং আতিকুর রহমান ওরফে শিশু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ১ জুন রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাছির মিয়ার বাড়িতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন ২ জুন সকালে টিয়ারা বাজারে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন এবং কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের দাবি, গত ২ জুন সকালে বাজারে দুধ বিক্রি করতে গেলে আতিকুর রহমান ওরফে শিশু মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক ইকবাল হোসেনের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা লোহার রড, স্টিলের পাইপ ও হকি স্টিক দিয়ে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের মেয়ে মুক্তা আক্তার বলেন, “আমার বাবা বাজারে দুধ বিক্রি করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে বেধড়ক মারধর করে। সেই হামলার আঘাতেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
নিহতের ছোট ভাই শিমুল অভিযোগ করেন, টিয়ারা বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তারা হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আতিকুর রহমান ওরফে শিশু মিয়ার পক্ষের লোকজন। তাদের দাবি, ২ জুনের ঘটনার সময় ইকবাল গুরুতর আহত হননি এবং পরবর্তী কয়েকদিন তাকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।
প্রতিপক্ষের দাবি, ইকবালের মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক বিরোধের ঘটনা জড়িত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ ও ৭ জুন ইকবালের সঙ্গে তার ভাই শিমুল ও ভাতিজা ইমরানের পারিবারিক কলহ হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় তিনি পাশের একটি উঁচু ড্রেনে পড়ে মাথায় আঘাত পান। সেই আঘাতের কারণেই তিনি পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মৃত্যুবরণ করেন বলে তাদের দাবি।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”