মোঃ শান্ত শেখ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ রাত ০৯:৪৬:৪৬
টুঙ্গিপাড়া ফিলিং স্টেশনে গ্রাহক ভোগান্তি চরমে, অনিয়মের অভিযোগ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ গ্রাহকদের বঞ্চিত করে রাতের আঁধারে বেশি দামে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রির অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্পটিতে ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের একটি টিম নিয়োজিত থাকলেও অভিযোগ রয়েছে—তদারকি উপেক্ষা করেই পাম্প কর্তৃপক্ষ গোপনে অধিকাংশ জ্বালানি তেল দোকান ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে কর্মজীবী সাধারণ গ্রাহকরা তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টুঙ্গিপাড়া ফিলিং স্টেশন থেকে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে তেল কিনে তা আবার খুচরা বাজারে আরও বেশি দামে বিক্রি করছেন। ফলে বাজারে জ্বালানির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, মোটরসাইকেলে তেল নিতে গেলে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত ৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ৫০০ টাকার তেল চাইলে ৪৫০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাত ২টার পর প্রশাসনের তদারকি না থাকলে পাম্পের পেছন দিক দিয়ে প্লাস্টিক বোতলে করে তেল বিক্রি করা হয়। সামনে গাড়ির লাইন থাকলেও বোতল নিয়ে আসা ক্রেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে ভাড়া করা লোকজন দিয়ে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন গ্রাহক।
সূত্র জানায়, ডিপো থেকে আনা জ্বালানির একটি অংশ স্বল্প সময়েই শেষ দেখিয়ে বাকিটা গোপনে বিক্রি করা হয়। সোমবার রাতে প্রায় ৩ হাজার লিটার তেল আনার পর মঙ্গলবার সকালে কয়েক ঘণ্টায় অর্ধেক সরবরাহ করে বাকিটা “উধাও” হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, পাম্প কর্তৃপক্ষ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা দরে তেল বিক্রি করে ব্যবসায়ীদের কাছে, যা পরে বাজারে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দোকান ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হলেও প্রশ্ন উঠেছে—তারা এসব তেল কোথা থেকে পাচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নিয়োগকৃত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
এ অবস্থায় দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দূর হবে না।