মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৫:৩৬:৪০
ভিজিডির চাল কম দেওয়া ও টাকা আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নে ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের দাবি, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেওয়া হচ্ছে এবং ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্টরা সরাসরি নগদ টাকা সংগ্রহ করছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় নয় মাস ধরে দুই বছর মেয়াদি এ কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগী নারীদের কাছ থেকে ইউনিয়নের গ্রামপুলিশরা সরাসরি নগদ টাকা সংগ্রহ করছেন। এতে দরিদ্র নারীদের সঞ্চয়ের অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অসহায় ও দরিদ্র নারীদের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা এবং দারিদ্র্য কমাতে সরকার সারা দেশে ২২০ টাকা সঞ্চয় জমা নিয়ে দুই বছর মেয়াদে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করে আসছে। রাজনগর উপজেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৪৩৫ জন নারী এই সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে তাদের নিয়মিত চাল পাওয়ার কথা।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, উপকারভোগীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দিয়ে রসিদ দেখিয়ে চাল নেওয়ার কথা। তবে টেংরা ইউনিয়নে গ্রামপুলিশদের মাধ্যমে সরাসরি নগদ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, প্রতিজনের জন্য ৩০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ২ থেকে ৩ কেজি কম দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে এ অনিয়ম চলায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
টেংরা ইউনিয়নের পূর্ব ইলাশপুর গ্রামের উপকারভোগী রুনা বেগম বলেন, “আমাদের সব সময় এভাবেই চাল দেওয়া হয়। গত নয় মাস ধরে চাল পাচ্ছি। টাকা জমা দিয়ে চাল নিতে হয়, আবার চালও কম দেওয়া হচ্ছে।”
এ বিষয়ে গ্রামপুলিশ সজল মালাকার বলেন, “আমরা যেভাবে নির্দেশনা পেয়েছি, সেভাবেই চাল বিতরণ করছি।”
টেংরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রামদুলারী জানান, অনেক উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাব না থাকায় প্রতিনিধির মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া হচ্ছে। চাল কম দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মধুছন্দা দাস বলেন, “ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অনেক সময় গ্রামের নারীরা ব্যাংকে যেতে পারেন না, তাই নগদ টাকা নিয়ে ব্যাংকে জমা করা হয়। চাল কম দেওয়ার বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”