শামীম আহমেদ জয়, মতলব প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ২ মে ২০২৬ রাত ০৬:০২:৩৪
উপস্থিতির স্বাক্ষর থাকলেও অফিসে অনুপস্থিত, নিয়মিত নিচ্ছেন বেতন
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার প্রধান সহকারী মোহাম্মদ উল্লাহ (নিপু) দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে পৌর কার্যালয়সহ স্থানীয় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহাম্মদ উল্লাহ (নিপু) ১৯৯৯ সালের ১ আগস্ট ছেংগারচর পৌরসভায় যোগদান করেন। তবে প্রায় দুই বছর ধরে তাকে নিয়মিত অফিসে দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে তিনি আর কর্মস্থলে আসেননি বলে দাবি সহকর্মীদের। অথচ প্রতি মাসেই তার ব্যাংক হিসাবে সরকারি বেতন-ভাতা জমা হচ্ছে।
পৌরসভার হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাঝেমধ্যে নিপুর নামে উপস্থিতির স্বাক্ষর রয়েছে। তবে সহকর্মীদের অভিযোগ, এসব স্বাক্ষর তার নিজের নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী তার হয়ে ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে হাজিরা নিয়মিত রাখছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সরকারি বিধি-বিধানের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মোহাম্মদ উল্লাহ নিপু একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। সেই প্রভাবের কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। বর্তমানে সেই প্রভাবের ধারাবাহিকতায় তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও অসাধু উপায়ে সরকারি অর্থ উত্তোলন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী বিনা অনুমতিতে ৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে তাকে ‘পলাতক’ হিসেবে গণ্য করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। এছাড়া কাজ না করে বেতন উত্তোলন করা দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৯ ধারায় প্রতারণা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের শামিল। এ অবস্থায় বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ উল্লাহ (নিপু) বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছি, সে কারণেই নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকতে পারি না।”
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক (নির্বাহী কর্মকর্তা) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, “প্রধান সহকারী কেন নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকছেন না, সে বিষয়ে তাকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”