নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬ রাত ০৭:৫১:০২
নবীনগরে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দুই মাস পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে র্যাবের তিন সদস্যকে আটকে রেখে মারধরের আলোচিত ঘটনায় প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত শফিক ওরফে শফিক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রোববার গভীর রাতে রাজধানীর কামরাঙ্গীচরের ঝাউলাহাটি শহীদ কাওসার রোড এলাকার একটি বাসা থেকে র্যাব-৯ ও র্যাব-১০-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার দুপুরে র্যাব-৯-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার সকালে তাকে ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে আসা হয়।
গ্রেপ্তার শফিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামের শহীদ ব্যাপারীর ছেলে। র্যাবের দাবি, তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ১১ মে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নবীনগরের খাগাতুয়া এলাকায় গেলে শফিক ও তার সহযোগীরা র্যাবের চার গোয়েন্দা সদস্যের ওপর অতর্কিত সশস্ত্র হামলা চালায়। পরে তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত র্যাব সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহত সদস্যদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহতদের মধ্যে কনস্টেবল মালেক মাথায় আঘাত পান, হাবিলদার রাশেদের ডান হাত এবং কনস্টেবল কাজলের বাম হাত ভেঙে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর একাধিক অভিযান চালিয়ে শফিকের কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হলেও তিনি আত্মগোপনে চলে যান। প্রায় দুই মাস পর একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় র্যাব।
র্যাব-৯-এর সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরনবী বলেন, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলবে। তিনি আরও জানান, গত মে মাসে খাগাতুয়া গ্রামে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনার পর পরিচালিত অভিযানে ওই ডাকাত দলের এক নারী সদস্যসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, অভিযুক্ত শফিককে র্যাব গ্রেপ্তার করেছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে তাকে এখনো নবীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। থানায় হস্তান্তরের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।