মোঃ শান্ত শেখ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৫:০১:০৫
গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংকুচিত হয়ে ব্যাহত অ্যাম্বুলেন্স চলাচল, বাড়ছে জীবনঝুঁকি
গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আবারও অবৈধ দখলে চলে গেছে। সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও অল্প সময়ের ব্যবধানে সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা। এতে সড়কটি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অ্যাম্বুলেন্স চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জরুরি রোগী পরিবহনে বিলম্ব ঘটছে, বাড়ছে জীবনঝুঁকি।
গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের দুটি ভবনের মাঝ দিয়ে যাওয়া এই সড়কটি রোগী স্থানান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন স্ট্রেচার কিংবা অ্যাম্বুলেন্সে করে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে রোগী নেওয়া হয়। কিন্তু সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে যেখানে পাঁচ মিনিটে পথ পাড়ি দেওয়া যেত, সেখানে এখন সময় লাগছে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। জরুরি মুহূর্তে এই বিলম্ব রোগীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে বসেছে ফলের দোকান, খাবারের হোটেল ও নানা অস্থায়ী স্টল। অনেক ক্ষেত্রে দোকানের বর্ধিতাংশ সড়কের ভেতর পর্যন্ত চলে এসেছে, যা চলাচলে আরও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এর ফলে প্রায়ই সড়কে যানজট তৈরি হচ্ছে। এই জটে আটকে পড়ছে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনও। এতে রোগী পরিবহনে বিলম্ব বাড়ছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে গোপালগঞ্জ পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল। তবে নিয়মিত নজরদারির অভাবে কিছুদিন পরই দখলদাররা আবার ফিরে আসে।
একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এটি হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রায়ই দেখি অ্যাম্বুলেন্স আটকে আছে। এতে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।”
আরেকজন পথচারী বলেন, সড়কটি প্রায় ৬০ ফুট প্রশস্ত হওয়ায় মাঝখানে ডিভাইডার দিয়ে চার লেনের ব্যবস্থা করা হলে চলাচল আরও সুশৃঙ্খল হতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উচ্ছেদের পর নিয়মিত তদারকি না থাকায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। ফলে একই চিত্র বারবার ফিরে আসছে।
সচেতন মহলের মতে, কেবল উচ্ছেদ অভিযান চালালেই হবে না; সড়ক দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।