রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬ রাত ১০:৩১:৫০
চার দাবিতে শজিমেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন
মানববন্ধন চলাকালে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, ঘোষিত চার দফা দাবি আদায়ে তারা বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বগুড়া শহরের মালগ্রাম ডাবতলা এলাকার নিহান নামের পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুকে নিউমোনিয়াজনিত সমস্যায় গত সোমবার শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে শিশুটির মৃত্যু হলে তার স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে হাসপাতালের আনসার সদস্যরা মৃত শিশুর কয়েকজন স্বজনকে আটক করলেও রাত ১১টার দিকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
ঘটনার পর বুধবার রাতেই হাসপাতালে উপস্থিত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) জেলা সভাপতি ডা. আফসারুল হাবিব রোজ। তিনি বলেন, “হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রতিটি রোগীর সঙ্গে একাধিক স্বজন উপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলা এবং তার নিকাব সরানোর চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এ বিষয়ে শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন জানান, খবর পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রোগীর এক আত্মীয় চিকিৎসকের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং তার নিকাব সরানোর চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি আবেগঘন হয়ে ওঠে।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত আত্মীয় একজন শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও বয়সে তরুণ হওয়ায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা পুনরায় কাজে ফিরেছেন।