নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬ রাত ১১:১৬:৩২
দেশে সংখ্যালঘু সংখ্যাগুরু বলতে কিছু নেই, সবাই বাংলাদেশী: ড. খন্দকার মারুফ
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন,দেশে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলতে কিছু নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশী। আমাদের ভাষা,কৃষ্টি,সংস্কৃতি এক ও অভিন্ন। রাষ্ট্রের বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিক সকল ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে। আমরা সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু বিভাজনে বিশ্বাসী নই। সকল ধর্মের মানুষের স্বার্থরক্ষায় বিএনপি সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
তিনি বৃহস্পতিবার (১৮জুন) রাতে দাউদকান্দি উপজেলা সদরে সাহাপাড়ায় শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরে ব্রহ্মা পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী পূজারী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন।
ড.খন্দকার মারুফ বলেন, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে, সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় ও সংস্কৃতির আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে নিরাপদে পালন করতে পারে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ কেউ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেনি। তাদের দলীয় ক্যাডার বাহিনীর সোনার ছেলেরা সারাদেশে পবিত্র কুরআনের তাফসির মাহফিল এবং হিন্দুদের পূজামন্ডপসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে বাধাগ্রস্ত করেছে। তারা দেশকে সকল ক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি ও অস্থিতিশীল করেছে। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করেছে।
খন্দকার মারুফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। তিনি মসজিদ,মন্দির,গীর্জার ধর্মীয় নেতাদের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য মাসিক সন্মানি ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। এইসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ,সংস্কার ও উন্নয়নে সরকার প্রচুর অনুদান বরাদ্দ দিচ্ছেন। চলতি বাজেটে এই খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার দীর্ঘ ১৬ বছর দু:শাসন আর লুটপাট চালিয়ে দেশের অর্থনীতি ও গণতন্ত্রসহ সকল ক্ষেত্র ধ্বংস করেছে। ক্ষমতায় এসে তারেক রহমান দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে 'খাল খনন কর্মসূচি', ফ্যামিলি কার্ড,কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ড বিতরণ কর্মসূচি চালু এবং কৃষিঋণ মওকুফসহ অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছেন।এতে তিনি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেখে সকল ধর্ম,বর্ণ ও শ্রেণিপেশার মানুষ আশাবাদী। তাঁর হাতেই স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিরাপদ। তিনিই পারবেন আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে ইনশাআল্লাহ কাঙ্খিত উন্নয়নের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসাবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
ড.খন্দকার মারুফ আগামী দিনে নিরাপদ,উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শের পতাকাতলে সামিল হতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
জিউর আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরের সভাপতি অশোক সাহার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম.এ বারী, পৌর বিএনপির আহবায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক পিটার চৌধুরী,বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কমিশনার ও মাহবুব হোসেন হিরণ, পৌর যুব দলের আহবায়ক শরীফ চৌধুরী,দাউদকান্দি উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব মো.রোমান খন্দকার ও জাসাস নেতা মধু সরকার প্রমুখ।