শামীম আহমেদ জয়, মতলব প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:২৫:৩০
মতলবে কালবৈশাখী ঝড়ে হেলে পড়েছে আধাপাকা ধান, দুশ্চিন্তায় কৃষক
গত দুই দিন ধরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়ায় পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান হেলে পড়েছে। একই সঙ্গে নিচু এলাকার অনেক ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে হেলে পড়া ও পানিতে ডুবে যাওয়া ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। দিনমজুর সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চরম উদ্বেগে রয়েছেন তারা। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বোরো চাষিদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে।
উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের কৃষক আজিজ মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন, যার বেশির ভাগই নিচু এলাকায়। এর মধ্যে ২ বিঘা জমির ধান কাটা ও মাড়াই করা হলেও সেগুলো শুকাতে পারেননি। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ঝড়ো হাওয়া। তিনি বলেন, “আমার এক বিঘা জমির ধান হেলে পড়েছে এবং পানিতে ডুবে যাওয়ার উপক্রম। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ তলিয়ে যেতে পারে।” পাকা ধান নিয়ে তিনি শঙ্কায় রয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১০ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জমি নিচু এলাকায় অবস্থিত। নিচু জমির ধান কাটামাড়াই ইতোমধ্যে শুরু হলেও উঁচু জমির ধান এখনও আধাপাকা অবস্থায় রয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে পুরোদমে কাটামাড়াই শুরু হবে। প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ পড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা এবং ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘায় ২৫ থেকে ২৮ মণ ধান পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের কৃষক আক্তার হোসেন বলেন, “এখন ধান কাটার সময় হলেও দিনমজুরের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চুক্তি ছাড়া কেউ কাজ করতে চায় না। প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। তাছাড়া বৃষ্টির দিনে শ্রমিক পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।”
এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসার ফয়সাল মোহাম্মদ আলী মো. জানান, গত দুই দিনের ঝড়ো হাওয়ায় তেমন বড় ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, “আগামী দুই দিনের মধ্যে বৃষ্টি কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের ধান কাটার জন্য হারভেস্টার মেশিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে নিচু এলাকার ধান ঘরে তুলতে কিছুটা কষ্ট হবে।” তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।