রাকিবুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর:
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬ রাত ১০:৩৩:১০
রায়পুরে সয়াবিন চাষে বিপ্লব, উৎপাদন ছাড়াতে পারে লক্ষ্যমাত্রা
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে সয়াবিন চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সয়াবিন গাছগুলো সুস্থ ও সবলভাবে বেড়ে উঠেছে। কোথাও উল্লেখযোগ্য রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণ নেই। বিশেষ করে ৮ নম্বর দক্ষিণ চর বংশী ইউনিয়নের কানিবগা চর এবং ২ নম্বর উত্তর চর বংশী এলাকায় সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। এসব এলাকায় বিস্তীর্ণ জমিতে সবুজ গাছের সারি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ হয়েছে। অনুকূল পরিবেশে প্রতি হেক্টরে ফলন সন্তোষজনক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সয়াবিন চাষে খরচ তুলনামূলক কম হলেও লাভের সম্ভাবনা বেশি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সেচের প্রয়োজন কম হয়েছে, ফলে উৎপাদন ব্যয়ও কমেছে। কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকিতে তারা আরও উৎসাহিত হয়েছেন।
কানিবগা চর এলাকার কৃষক আবদুল কাদের বলেন, “সময়মতো বৃষ্টি হয়েছে, জমিতে পানি জমেনি। কৃষি অফিসের পরামর্শ মেনে চাষ করেছি। গাছ ভালো হয়েছে, ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি।”
উত্তর চর বংশীর কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, “গত বছরের তুলনায় খরচ কম হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো লাভ করতে পারবো। বাজারদর ভালো থাকলে আরও উৎসাহ পাবো।”
তবে বাজারমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তাও রয়েছে কৃষকদের। একই এলাকার কৃষক আবুল বাশার বলেন, “গাছ দেখতে ভালো হলেও বাজারদর নিয়ে শঙ্কা আছে। গত বছর ফলন ভালো হলেও দাম কম থাকায় লাভ হয়নি। এবারও যদি এমন হয়, তাহলে খরচ ওঠানো কঠিন হবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম বলেন, “অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সচেতনতার কারণে এ বছর সয়াবিনের ভালো ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি। আশা করছি, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হবে।”
তিনি আরও জানান, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদনের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। রায়পুর অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া সয়াবিন চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় প্রতিবছর আবাদ বাড়ছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সঠিক বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ খাতে আরও সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।