মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬ রাত ০৭:১৯:২০
কমলগঞ্জে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, ওজনে কম দেওয়া ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিরজনা আক্তার হেনার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাস্টাররোলে ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে চাল আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতি ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেকেই পেয়েছেন মাত্র ৭ কেজি করে। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে উল্টো দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন উপকারভোগীরা।
স্থানীয়দের দাবি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বামী স্থানীয় কৃষক দল নেতা হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদে তার প্রভাব বিস্তার রয়েছে। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে নিজের ইচ্ছামতো চাল বণ্টন করা হচ্ছে এবং প্রকৃত দুস্থদের বাদ দিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া উপকারভোগীদের অজান্তেই মাস্টাররোলে টিপসই দিয়ে চাল আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল ১০ কেজি চাল পাবো, কিন্তু মেপে দেখি ৭ কেজি। কথা বললে ধমক দেওয়া হয়। নিজেদের লোকজনকে বেশি দেওয়া হচ্ছে, আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।”
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নিরজনা আক্তার হেনার বিরুদ্ধে টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য), খাবিটা ও ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত উন্নয়ন কাজ না করেই বিল উত্তোলনেরও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিরজনা আক্তার হেনার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে তার স্বামী আহাদ মিয়ার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি চাল বিতরণে কারচুপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, “তদন্তের মাধ্যমে চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”