কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৮:১৫:৩৮
কিশোরগঞ্জে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন
কিশোরগঞ্জে আবু বাক্কার সিদ্দিক হত্যা মামলায় ছেলে মো. সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় নিহতের স্ত্রী মোছা. আছিয়া খাতুন, ছেলে মো. জাবেদ ও পুত্রবধূ মোছা. ময়না খাতুনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এসময় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মো. সেলিমকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার ও আদালতের রায় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ জুলাইয়ের দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার স্বল্পযশোদল ভুবিরচর গ্রামের আবু বাক্কার সিদ্দিকের সঙ্গে তার স্ত্রী আছিয়া খাতুনের পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্ত্রী, দুই ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে তার বিরোধ আরও তীব্র হয়।
এরপর ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই রাতে প্রতিদিনের মতো খাবার খেয়ে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে পড়েন আবু বাক্কার। রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৬টার মধ্যে কোনো একসময় আসামিরা ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হত্যা করে এবং লাশ কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
পরদিন সকালে ছেলে সেলিম উঠানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে থাকেন, তিনি তার বাবাকে হত্যা করেছেন এবং আর জীবন রাখবেন না। একপর্যায়ে তিনি নিজের পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে পরিবারের লোকজন তাকে আটক করেন।
পরে নিহতের স্বজনরা ঘরে গিয়ে কম্বল সরিয়ে আবু বাক্কার সিদ্দিকের মাথার ডান পাশে গুরুতর জখম ও বিছানায় রক্ত দেখতে পান। তাকে দ্রুত কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত সেলিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় সেলিম, জাবেদ, আছিয়া খাতুন ও ময়না খাতুনসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত মো. সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় সেলিম আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের খালাস দেওয়া হয়।