আবুল কালাম আজাদ, বগুড়া
প্রকাশ : ৫ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৯:০৪:১৬
বগুড়ায় এমপির উপস্থিতিতে ডিসির সঙ্গে পূজা কমিটির নেতাদের হট্টগোল
শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বগুড়ায় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সভা বর্জন করে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। পরে বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার অনুরোধে তারা আবার বৈঠকে যোগ দেন।
সোমবার দুপুরে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১১টার দিকে জেলার ১৩টি উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতিনিধি ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের নিয়ে দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা।
সভায় কয়েকজন উপজেলা পর্যায়ের পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধি বক্তব্য দেওয়ার পর জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান সময় স্বল্পতার কথা জানান। এরপর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
এ সময় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা নিজেদের এলাকার পূজা আয়োজনের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরার সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাসসহ কয়েকজন নেতা হট্টগোল করে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
পরে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা পরিস্থিতি সামাল দেন। তাঁর অনুরোধে পূজা পরিষদের নেতারা আবার সভায় ফিরে আসেন।
ধুনট উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ বিকাশ চন্দ্র সাহা বলেন, তিনি কিছুক্ষণ বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর আগে আরও কয়েকজন প্রতিনিধি কথা বলেছেন। এরপর বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার কথা জানানো হলে উপস্থিত নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, বছরে একটি দিন জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পূজা উদযাপন নিয়ে কথা বলার সুযোগ আসে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতারা ৩০-৩৫ কিলোমিটার দূর থেকে সভায় এসেছেন। তাঁদের অনেক বিষয় ও দাবি-দাওয়া ছিল। কিন্তু সেই বৈঠকে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ায় তাঁরা কষ্ট পেয়েছেন।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণেই তাঁরা সভায় গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সুযোগ না থাকলে এমন সভার প্রয়োজন কী—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে এমপি রেজাউল করিম বাদশার অনুরোধে তাঁরা সভায় ফিরে যান।
ঘটনার বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার পর্বে জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ কথা বলেননি। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁরা কেন তাঁদের সময় দেওয়া হয়নি—এ নিয়ে আপত্তি জানান। এতে তাঁরা মনঃক্ষুণ্ন হয়ে সভা থেকে বেরিয়ে যান। পরে অবশ্য তাঁরা আবার বৈঠকে যোগ দেন।