খন্দকার মোঃ আলমগীর হোসেন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৬:৩২:৩৮
নবীনগরে পুকুরের পানিতে ডুবে যমজ দুই ভাইয়ের মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পুকুরের পানিতে ডুবে ১৯ মাস বয়সী যমজ দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মেরকুটা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো মো. হুজাইফা ও মো. আকরাম। তারা ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মো. আক্কাস মিয়ার ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে ফুটবল নিয়ে খেলছিল দুই ভাই। খেলার একপর্যায়ে বলটি পাশের পুকুরে পড়ে যায়। বলটি আনতে গিয়ে অসাবধানতাবশত দুজনই পুকুরের পানিতে তলিয়ে যায়। পরে পুকুরপাড় দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক পথচারী পানিতে দুই শিশুর নিথর দেহ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।
খবর পেয়ে স্বজনেরা দ্রুত দুই শিশুকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মুহূর্তেই আনন্দময় পরিবারটিতে নেমে আসে শোকের ছায়া। যে বাড়ি দুই শিশুর হাসি-খেলায় মুখর থাকত, সেখানে এখন স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
নিহত শিশুদের চাচা মো. নোয়াব মিয়া বলেন, “আমার ভাইয়ের কোনো মেয়ে নেই, পাঁচ ছেলে। শখ করে এক ছেলের নাম রেখেছিলেন হুজাইফা। কিন্তু আজ সকালে পানিতে ডুবে হুজাইফা ও আকরাম দুজনই মারা গেছে।”
মাত্র ১৯ মাস বয়সী দুই সন্তানকে একসঙ্গে হারিয়ে পরিবারটি গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। তাদের বাবা সৌদি আরবে প্রবাসে থাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবারের বেদনা আরও গভীর হয়েছে। দুই শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। পারিবারিক কবরস্থানে দুই ভাইকে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
একই সঙ্গে পৃথিবীতে আসা, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা দুই ভাইয়ের জীবনপ্রদীপ নিভে গেল মাত্র ১৯ মাস বয়সেই। যে দুই শিশুর একসঙ্গে বড় হয়ে ওঠার কথা ছিল, তাদের এমন করুণ বিদায়ে শোকাহত স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
বিদ্যাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকারুল হক বলেন, “খেলাধুলা করার সময় ওই দুই শিশু পুকুরের পানিতে তলিয়ে মারা গেছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।”
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদুল আলম চৌধুরী জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছেন তাঁরা। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ করা হয়নি।