টুঙ্গিপাড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬ রাত ১০:০৪:৩০
টুঙ্গিপাড়ায় পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে সার্ফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ভূউপরিভাগস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্প) চালুর ফলে বদলে গেছে বহু বছরের চিত্র। একসময় পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়া এ এলাকায় বর্তমানে এসব রোগের প্রকোপ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
টুঙ্গিপাড়ার অধিকাংশ স্থানে ভৌগোলিক কারণে গভীর নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হয় না। কিছু অগভীর নলকূপ থাকলেও সেগুলোর পানি পান বা ব্যবহার উপযোগী নয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নদী ও খাল-বিলের অশুদ্ধ পানিই ছিল এখানকার মানুষের একমাত্র ভরসা। এতে সুপেয় পানির অভাবে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক পরিবার দুর্ভোগে ছিল।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ছয়টি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২২–২০২৩ অর্থবছরে চারটি নতুন প্লান্ট নির্মাণের পর সুপেয় পানির সংকট অনেকটাই দূর হয়।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এসব প্লান্ট থেকে বর্তমানে প্রায় ২২ হাজার মানুষ বা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবারকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ লিটার সুপেয় পানি সরবরাহের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের পানির চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু সুপেয় পানির সংকট দূর হয়নি, বরং স্থানীয় শিক্ষিত তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। ছয়টি প্লান্টে স্থানীয় কয়েকজন তরুণের চাকরির সুযোগ হয়েছে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার জানান, মধুমতি নদীবিধৌত এ অঞ্চলে বছরের কয়েক মাস পানি লবণাক্ত হয়ে পড়ে। তখন কলেরা, আমাশয় ও ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। এ সমস্যা নিরসনে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্প সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে নির্ধারিত হারে পানির বিল নেওয়া হয়। হাফ ইঞ্চি পাইপলাইনের জন্য মাসিক ২৫০ টাকা এবং তিন-চতুর্থাংশ ইঞ্চি লাইনের জন্য ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। পানি শোধন ও সরবরাহ ব্যয় এবং জনবল বেতনের পুরো খরচই গ্রাহকদের দেওয়া এই অর্থ থেকে মেটানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুপেয় পানির অভাবে দেশের অনেক এলাকায় প্রতি বছর পানিবাহিত রোগে বহু মানুষ আক্রান্ত হন। তবে টুঙ্গিপাড়ায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্প ইতোমধ্যে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রকল্পটি আরও আধুনিকায়ন করা হলে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে এর ভূমিকা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।