আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ৮ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৮:৩৩:৪৯
পেট্রোলের জন্য জেনারেটর নিয়ে ১৩ কিলোমিটার উপজেলা সদরে, ৫ লিটারে ৫০০ টাকা ভ্যান ভাড়া
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পেট্রোল সংকটের কারণে মাত্র ৫ লিটার জ্বালানি সংগ্রহ করতে ২৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৫০০ টাকা ভ্যান ভাড়া গুনতে হয়েছে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষকে। এতে স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বাগধা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের সময় রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালু রাখতে জেনারেটরের জন্য পেট্রোল প্রয়োজন হয়। আগে স্থানীয় বাজার থেকেই জ্বালানি সংগ্রহ করা গেলেও বর্তমানে সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।
এ অবস্থায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার মো. আনিচুর রহমান হাওলাদার পেট্রোলের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহার কাছে আবেদন করেন। তিনি সরেজমিন পরিদর্শনের পর জেনারেটরসহ উপজেলা সদরে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে জেনারেটর ভ্যানে করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে গেলে ট্যাগ অফিসার ৫ লিটার পেট্রোল বরাদ্দের একটি স্লিপ প্রদান করেন। তবে আগৈলঝাড়া ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পেট্রোল না থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পরে সন্ধ্যায় ৬৮০ টাকায় ৫ লিটার পেট্রোল সংগ্রহ করে তারা ফিরে যান।
এ যাতায়াতে সাতলা গ্রামের ভ্যানচালক রহিম সরদারকে ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগৈলঝাড়া ফিলিং স্টেশনে ১০০ টাকার বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে তেলের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজীদ সরদার এবং ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহার দপ্তরে প্রতিদিন ভিড় করছেন কৃষকরা।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার আনিচুর রহমান হাওলাদার বলেন, “ট্যাগ অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেনারেটর নিয়ে গিয়ে ৫ লিটার পেট্রোল সংগ্রহ করেছি। ভবিষ্যতেও পেট্রোল নিতে হলে আবার জেনারেটর নিয়ে যেতে হবে।”
প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটর ও ইউপি সদস্য শামীম মিয়া নিক্সন বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এভাবে দূর থেকে পেট্রোল এনে প্রতিষ্ঠান চালানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহা জানান, পেট্রোল একটি দাহ্য পদার্থ হওয়ায় খোলা পাত্রে বহন করা নিষিদ্ধ। এ কারণে জেনারেটর সঙ্গে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়টি যাচাই করতে পুনরায় জেনারেটর নিয়ে আসতে বলা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।