নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৩:৪৯
সড়ক নয় যেন সরু খাল, নাগরপুর-চৌহালী সড়কের খানাখন্দে চরম দুর্ভোগ
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদর বাজারে প্রবেশের প্রধান সড়ক নাগরপুর-চৌহালী সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সদর বাজারে প্রবেশকারী হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন ছোট-বড় যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। বিশেষ করে সামান্য বৃষ্টিতেই নাগরপুর সোনালী ব্যাংক সড়ক থেকে চৌহালী সড়কের দুয়াজানী দেলু মিয়ার ব্রিজ পর্যন্ত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে সড়কের নাজুক অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দেখে মনে হয়, এটি কোনো সড়ক নয়, যেন একটি সরু খাল।
জানা যায়, নাগরপুর উপজেলায় প্রবেশ ও বের হওয়ার চারটি সড়কের মধ্যে নাগরপুর-শাহজানী ভায়া চৌহালী সড়কটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়কে ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় থাকায় অন্যান্য সড়কের তুলনায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল অনেক বেশি। দীর্ঘদিন সড়ক সংস্কার না করা এবং অপরিকল্পিতভাবে সড়ক নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সদর বাজারের ব্যবসায়ী নুরুল আলম সেতু আক্ষেপ করে বলেন, “সোনালী ব্যাংক রোডে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে যায়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদাসীন। দেখে মনে হয়, তাদের যেন কিছুই করার নেই।”
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাগরপুর-শাহজানী ভায়া চৌহালী সড়কের দেলু মিয়ার ব্রিজ থেকে সোনালী ব্যাংক পর্যন্ত সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। প্রতিদিন এ সড়কে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, সিএনজি, অটোরিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, রিকশা ও ভ্যান দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
রিকশাচালক নিরঞ্জন জানান, “চৌহালী-নাগরপুর সড়কের দেলু মিয়ার ব্রিজ থেকে সদর বাজারের প্রবেশপথ বটতলা হয়ে তালতলা পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তা পার হতে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে। অনেক সময় রাস্তার কাদা-পানি ছিটকে পথচারীদের কাপড় নষ্ট হয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।”
এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “নাগরপুর-চৌহালী সড়কের কাজ দুটি প্যাকেজে শুরু হয়েছে। বালি ও মাটি না থাকায় কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। যেসব স্থানে রাস্তা নিচু হয়ে আছে, সেগুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ঢালাইয়ের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হবে।”