মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৬:০৬:২৭
দেওড়াছড়া চা বাগানে ৩ সপ্তাহ মজুরি বন্ধ: শ্রমিকদের আন্দোলন, অফিস গেটে তালা
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের বাংলাদেশ টি বোর্ডের নিয়ন্ত্রাধীন দেওড়াছড়া চা বাগানে টানা তিন সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরি (তলব) বন্ধ থাকায় বিক্ষোভ ও আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বাগানের অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে বিকেলে মজুরি প্রদান শুরু হলে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে আসেন।
জানা যায়, গত তিন সপ্তাহ ধরে বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মজুরি প্রদান করতে না পারায় কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক চরম দুর্ভোগে পড়েন। মজুরি প্রদানের দাবিতে শ্রমিকরা বারবার দাবি জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এ প্রেক্ষিতে দেওড়াছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটি গত ১২ এপ্রিল শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করে। কিন্তু কয়েকদিন পার হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা বাগানের অফিসের সামনে অবস্থান নেন।
একপর্যায়ে তারা অফিসের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। এতে বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বাগান সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে এক অনিয়মিত নারী শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাকে বাগান কর্তৃপক্ষ প্রায় ১১ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা দেয়। এ ঘটনার পর কিছু শ্রমিক ভারপ্রাপ্ত বাগান ব্যবস্থাপকের অপসারণ দাবি করে আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে ছুটিতে চলে যান। ব্যবস্থাপক না থাকায় প্রশাসনিক জটিলতায় শ্রমিকদের মজুরি প্রদান বন্ধ হয়ে পড়ে।
দেওড়াছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবুধ কর্মী বলেন, “তিন সপ্তাহ ধরে তলব বন্ধ থাকায় কয়েক শতাধিক শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমরা লিখিতভাবে দাবি জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছে।”
রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, মজুরির দাবিতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অফিসে তালা দেন। পূর্বের এক শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনার জেরে বাগান ব্যবস্থাপনা সংকটে পড়ে এবং তলব বন্ধ ছিল। তবে কোম্পানির নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেলে মজুরি প্রদান শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত বাগান ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম জানান, “নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার পর কিছু লোক আমার ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে এবং আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমি ছুটিতে আছি।”
বাংলাদেশ টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্যবস্থাপক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। দ্রুত নতুন ব্যবস্থাপক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ শুরু হয়েছে।