মৌলভীবাজার থেকে, মনজু বিজয চৌধুরী
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১০:৩৬:৫৪
মৌলভীবাজারের বৃষ্টির ছোঁয়ায় বদলে গেছে চা বাগান, মৌসুমের শুরুতেই ব্যস্ত চা শ্রমিকরা
টানা কয়েক মাস খরার পর বৃষ্টির পানি পেয়ে বদলে গেছে মৌলভীবাজারের চা বাগান। একটি কুঁড়ি ও দুটি চা পাতা মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির ছোঁয়া, ফিরে পেয়েছে কচি পাতার সমারোহে ক্রমান্বয়ে ভরে উঠছে বাগানগুলো।
চা বাগান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা ও সদর উপজেলায় প্রায় ৯২টি চা বাগান রয়েছে। চা বাগানে উৎপাদনের জন্য বিদ্যু প্রয়োজন। বিদ্যু লোডেেশডিং শুরু হয়েছে এতে চা উৎপাদনের জন্য ক্ষতি হচ্ছে।
মৌসুমের শুরুতেই এই বৃষ্টি চা উৎপাদনের জন্য ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। প্রায় তিন মাস আগে জেলার বিভিন্ন বাগানের চা গাছ ছাঁটাই বা প্রুনিং কার্যক্রম শুরু হয়। সাধারণত শীত মৌসুমের শুরুতে এই ছাঁটাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর কিছুদিন বাগানগুলোতে রুক্ষ ও শুষ্ক পরিবেশ বিরাজ করে।
চা-বাগানে যতদূর চোখ যায় কেবল সবুজ আর সবুজের হাতছানি। ভোরের আলো ফুটতেই ঝুড়ি কাঁধে নিয়ে বাগানে ছুটছেন তারা। সারি সারি চা গাছের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তারা কচি দুই পাতা ও একটি কুঁড়ি তুলছেন। ভোর থেকেই এ কচি পাতা উঠাতে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন- নারী শ্রমিকেরা।
নারী চা শ্রমিকরা জানান, ৩ মাস আমরা চা গাছ ছাঁটাই করেছি। এই বছরের যে বৃষ্টি হয়েছে, আমাদের চা পাতা কুঁড়ি বের হয়েছে। বিভিন্ন চা-বাগানে চা কুড়ি পাতা চলে আসছে। নতুন চা পাতা তুলতে খুবই ভালো লাগছে, বেশি চা পাতা হলে ,বেশি তুলতে পারব। যখন বৃষ্টি ছিল না তখন আমরা কলসি দিয়ে চারা গাছে পানি দিয়েছি,এখন চা পাতা কুড়ি হয়েছে তাই আমাদের ভালো লাগছে।
মৌলভী চা বাগানের ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী বলেন, বৃষ্টি আমাদের জন্য আশীর্বাদ মনে করি আল্লাহর রহমত। কোন খরায় হওয়ার সম্ভাবনা নেই, আগামী বর্ষাকাল চলে আসছে আশা করছি। গত বছর আমাদের বিদ্যুতের লোডশেডিং কম ছিল ,লোডশেডিং যত বেশি হবে আমাদের চায়ের প্রোডাকশন খরচ বৃদ্ধি পাবে।
এনটিসি) মাধবপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক দিপন কুমার সিংহ বলেন আমাদের এই মৌসুমে মার্চ মাসের দিকে বৃষ্টিটা হওয়ার কারণে চা বাগানে নতুন একটি পাণ্র ফিরে পেয়েছে। ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে আমাদের কাজ চলমান ছিল তারপরও পরিপূর্ণ ছিল না, এই বৃষ্টির কারণে অনেকটাই রিকভারি হয়ে যাবে।
বাংলাদেশীয় চা সংসদ (বিসিএস) সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান ও ফিনলে চা ভাড়াউড়া ডিভিশনের জি এম গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, এই বছর আমরা অগ্রিম বৃষ্টি পেয়েছি গত বছর খুব বেশি খরা ছিল মে মাস পর্যন্ত। আগামী মাসগুলোতে আমরা যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টি এবং রোদ দুটি পাই তাহলে আশা করি, আমাদের চায়ের উৎপাদনটা বেশি হবে। বিদ্যুৎ এবং ডিজেল দুটি চা উৎপাদনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন।