আহমেদ স্বপন, মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬ রাত ০৯:১৪:১৪
মেহেরপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টা, ভূয়া সাংবাদিক গ্রেফতার
মেহেরপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে আব্দুর রউফ নামের এক কথিত সাংবাদিককে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (তারিখ) সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
আটক আব্দুর রউফ শহরের মল্লিকপাড়ার মৃত জমির উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন সরকারি অফিসে নিজেকে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আত্মীয় ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, রমজান মাসের শুরু থেকে অফিসের প্রধান সহকারী মোশারফ হোসেন ও পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেনের কাছে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন আব্দুর রউফ। রবিবার সকালে তিনি সরাসরি অফিসে গিয়ে ওই টাকা দাবি করলে অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা তাকে আটক করেন এবং পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে যায়।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন জানান, “স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আত্মীয় ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করে আসছিলেন তিনি। আজ অফিসে এসে আবার টাকা চাইলে আমরা তাকে আটক করি এবং কর্তৃপক্ষকে জানাই। পরে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।”
মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ন কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আব্দুর রউফ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় আকরাম হোসেন বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা বলেন, “আমি অফিসে না থাকার সময়টাকে বেছে নিয়েই আব্দুর রউফ বারবার অফিসে আসতেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের অফিসের পরিসংখ্যানবিদ তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেছেন। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমি লিখিত আবেদন করবো।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে একাধিকবার আলোচনায় এসেছেন আব্দুর রউফ। গত বছর গাংনী উপজেলায় চাঁদা আদায়ের চেষ্টাকালে তিনি গণধোলাইয়ের শিকার হন এবং ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। কয়েক মাস কারাগারেও ছিলেন তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামে এক হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এছাড়াও নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে অবৈধভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অভিযোগে অতীতে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন আব্দুর রউফ।