সিনিয়র গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৭ মে ২০২৬ রাত ০৯:৫৭:৪৭
সুঁই-সুতায় বদলে যাচ্ছে নারীর জীবন
একটি সেলাই মেশিন, একটি সনদপত্র আর সামান্য মূলধন— এতটুকুই বদলে দিতে পারে একজন নারীর জীবনের গল্প। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গাইবান্ধার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “কর্মীর হাত” গত চার বছর ধরে পরিচালনা করছে নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) আত্মকর্মসংস্থান কর্মসূচি ও যৌতুক বিরোধী প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী নারীদের মধ্যে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। চার মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে ৪০ জন নারীর হাতে তুলে দেওয়া হয় সেলাই মেশিন, সনদপত্র এবং প্রাথমিক মূলধন। এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা।
প্রবাসীদের সংগঠন “ফোরাম ৮৬”-এর সহযোগিতায় পরিচালিত এ কর্মসূচিতে বিবাহযোগ্য ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বছরে দুটি ব্যাচে মোট ৪০ জন নারী এই প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। আয়বর্ধক এই উদ্যোগ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানান আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক। তিনি বলেন, “কর্মীর হাতকে আরও শক্তিশালী করে আগামীদিনে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে আরও বেগবান করতে হবে।” তিনি সংগঠনটির স্বাস্থ্যসেবা, ক্রীড়া, হুইলচেয়ার ও শীতবস্ত্র বিতরণ, বন্যা ত্রাণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক মো. ইমাম হাসিম এবং গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাশ হিমুন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও কর্মীর হাতের সহসভাপতি এটিএম ফরহাদ হোসেন বিজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাবু, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. ফজলুর করিম, সহসভাপতি রকিবুল হক চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর কবির বাদল, সদস্য জাহিদুল হক লিটন এবং প্রশিক্ষণার্থী লিজু আকতার ও সুরাইয়া আকতার সিনথিয়া।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত “কর্মীর হাত” দীর্ঘ চার দশক ধরে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি অর্জন করেছে। গত ১২ বছর ধরে সংগঠনটি চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি যৌতুক বিরোধী কর্মসূচির আওতায় নারীদের আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।