মোঃ কাইয়ুম আলী’ ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৮:০২:৪৪
নারায়ণগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সীমান্ত হত্যা: ৩ ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড
নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থী ওয়াজেদ আলম সীমান্ত হত্যা মামলায় তিন ছিনতাইকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে আসামিদের উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—অনিক, আকাশ খান ও চান্দি বাবু।
রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিবুল্লাহ বিপু জানান, মামলার বিচারকাজে ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ ও বাদীপক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ভোর ৬টার দিকে এআইইউবির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াজেদ আলম সীমান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন।
এ সময় ছিনতাইয়ে বাধা দিলে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে সীমান্তের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে তার ব্যাগ ও মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
আশপাশের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় সীমান্তকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা হাজী আলম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিবুল্লাহ বিপু বলেন, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতেও রায় বহাল থাকবে এবং দ্রুত তা কার্যকর হবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।
এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সীমান্তের বাবা হাজী আলম। তিনি দণ্ডপ্রাপ্তদের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।