জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৫ জুলাই ২০২৬ রাত ০৯:২৯:২৩
৫৫ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করা গুলি অপসারণ, অস্ত্রোপচারে স্বস্তি পেলেন মন্নাস আলী
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর ছোড়া গুলি শরীরে বহন করে দীর্ঘ ৫৫ বছর কাটানোর পর অবশেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই গুলি অপসারণ করা হয়েছে মন্নাস আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের শরীর থেকে।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হানের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল প্রায় ৩০ মিনিটব্যাপী সফল অস্ত্রোপচার পরিচালনা করে তার পেট থেকে গুলিটি বের করেন।
মন্নাস আলীর বাড়ি উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের হরিয়াউন্দ গ্রামে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দুর্গাপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সে সময় গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা তিনজন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেন। এর প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানি বাহিনী আশপাশের গ্রামগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালায়।
হামলার সময় অর্ধশতাধিক মানুষকে ঘরের ভেতরে আটকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় এবং নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বহু মানুষ নিহত হন, আর অনেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যান।
সেই সময় প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর সময় পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া একটি গুলি মন্নাস আলীর পেটে বিদ্ধ হয়। চরম দারিদ্র্যের কারণে তিনি কখনো অস্ত্রোপচার করাতে পারেননি। ফলে প্রায় ৫৫ বছর ধরে শরীরেই গুলিটি বহন করে জীবন কাটাতে হয় তাকে।
সম্প্রতি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনায় এলে চিকিৎসকদের নজরে আসে। পরে উদ্যোগ নিয়ে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার অস্ত্রোপচার করা হয় এবং দীর্ঘদিনের সেই গুলিটি সফলভাবে অপসারণ করা সম্ভব হয়।
চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং বর্তমানে মন্নাস আলী চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।