ইমন মাহমুদ লিটন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:১৩:১৫
খানাখন্দে বেহাল ভৈরবের গোছামারা সড়ক, দুর্ভোগ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা সড়কটি খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতায় বেহাল হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করা পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দূরত্ব প্রায় ৪ কিলোমিটার ও বাসস্ট্যান্ড এলাকার দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। এ সড়ক দিয়ে উপজেলার শিমুলকান্দি ও শ্রীনগর ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে। এমনকি আগানগর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষও এই পথ দিয়ে ভৈরব শহরসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন যাবত গোছামারা এলাকার সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও দেখার কেউ নেই।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, গোছামারা এলাকার সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ, সড়কের পাশে ড্রেন না থাকায় সড়কের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে। স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষা মঞ্জুর আলী মিয়া রোড ও অদূরে একটি সরু কালভার্ট দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ পথচারী ও স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন সরকার এবং পথচারী শাজাহান মিয়া ও আমির হোসেন বলেন, ভৈরব পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে গোছামারা গ্রামের অবস্থান। এই গ্রামের সড়ক দিয়ে প্রতিদিন তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। ভৈরব শহরের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের প্রধান সড়ক এটি। সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া পানি জমলেও তা নিষ্কাশনের কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ফলে জমে থাকা পানি থেকে ডেঙ্গু মশার উপদ্রব বাড়ছে এবং নানাবিধ রোগবালাই ছড়াচ্ছে।
গোছামারা এলাকার তাহমিনা মোসলেহ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম, শিক্ষার্থী রোমানা আক্তার ও রিয়ান মিয়া বলে, রাস্তায় খানাখন্দ ও পানি জমে থাকায় অনেক সময় তাদের জামাকাপড় এবং বই-খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টি আসলে রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে চায় না। এ কারণে বিদ্যালয়ে নিয়মিত সব ক্লাস হয় না।
অটোরিকশা চালক শাহিন মিয়া,আক্তার মিয়া,কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘রাস্তাটি ভাঙা থাকার কারণে ঠিকমত গাড়ি চালাতে পারি না। দুই দিন পরপর গাড়িতে সমস্যা দেখা দেয়। মেরামতে অনেক টাকা চলে যায়। সড়কটি ছোট হওয়ায় একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে অন্য গাড়িকে সাইট দিতে হয়। কিছুদিন আগে ওভারটেক করতে গিয়ে গাড়ি উল্টে একজন মারা যান।’
স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. ফরিদ মিয়া বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সামান্য বৃষ্টিতেই বড় বড় গর্তগুলোতে পানি জমে রাস্তায় চলাচল অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এতে এই রাস্তায় নিয়মিত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
গোছামারা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আল আমিন মিয়া জানান, সম্প্রতি ইউএনও মহোদয় সড়কটি পরিদর্শনে এসেছিলেন। যতটুকু জেনেছি, সড়কটি সংস্কারের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পথে।
শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, গোছামারা সড়কটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে তিন ইউনিয়নের হাজার মানুষ চলাচল করে। এ সড়কটির বিষয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে.এম মামুনুর রশীদ বলেন, ভৈরবের ভেঙে যাওয়া সড়কগুলো মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত কাজ করা হবে। গোছামারা এলাকার সড়কের কাজও খুব দ্রুত শুরু হবে।