মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ১ মে ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৪:২৩
মৌলভীবাজারে ডাকাতিকালে এক যুবক হত্যার ঘটনায় দুই ডাকাতের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন
মৌলভীবাজারে ডাকাতিকালে এক যুবককে গুলি করে হত্যা ও ঘরের মালামাল ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় দুই ডাকাতের মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, মৌলভীবাজার অতিরিক্ত দায়রা জজ (২য়) আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় দেন।
২০০৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১টার দিকে বড়লেখা উপজেলার শেওড়াদিখা গ্রামে ১৫-১৬ জনের একটি ডাকাত দল কামরুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করে। ডাকাতরা ঘরের সদস্যদের রশি দিয়ে বেঁধে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় অলিউর রহমান অলিদ চিৎকার করলে ডাকাতরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার পরপরই কামরুল ইসলাম বড়লেখা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলার তদন্ত শেষে আদালত ১১ জন আসামির বিরুদ্ধে রায় প্রদান করেন। দুই আসামি, ওসমান ফারুক ও বকুল, ডাকাতির সময় অলিউর রহমান অলিদকে গুলি করে হত্যা করার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। এর পাশাপাশি আদালত তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডেরও নির্দেশ দিয়েছেন। তবে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি পলাতক রয়েছেন।
এছাড়া, ৯ জন আসামি, যাদের মধ্যে টোকন ওরফে টুনু, মজিবুর রহমান মেম্বার, ওয়াসিম, রতন, কামাল, সোবহান, লতিফ খা, রেহান ওরফে রায়হান এবং লিটন, যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তাদেরকে একইভাবে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত, জরিমানার পুরো অর্থ নিহত অলিউর রহমান অলিদের পরিবারের হাতে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে, মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে আসামি পাখি, আসাদুল, নুনু এবং লুকোজ মৃত্যুবরণ করায় তাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তোফায়েল আহমেদ বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে অভিযোগকারী সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার পেয়েছেন এবং সমাজে এটি একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছাবে। অপরাধীরা ভয় পাবে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ হবে।”