নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬ সকাল ১১:৫৮:৩৬
মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে নতুন বাজার লেবু আড়ৎ শ্রমিক দলের নাম ভাংঙ্গিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নতুন বাজার লেবু আড়ৎ এ লেবু পরিবহন ব্যবসা থেকে শ্রমিক দলের নাম ভাংঙ্গিয়ে বছরে কযেক লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। চাঁদা আদায়কারীদের সাথে লেবু পরিবহন ব্যবসায়ীদের চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। চাঁদা না দিলে গাড়ি আটকে রাখা, ভয়ভীতি দেখানো ও শ্রমিক সংকট তৈরির হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারের মোসাব্বির আল মাসুদ লেবু বাজারে পরিবহন ব্যবসায়ী জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে আমি পান ও লেবু পরিবহন ব্যবসা করি। আমার ট্রেড লাইসেন্স আছে। আমি ভ্যাট, ট্যাক্স দিয়ে থাকি। গত ২০০৮ সাল থেকে বিগত ১৭ বছর আমার ব্যবসা অন্যরা লুটে পুটে খেয়েছে। গত ৫ আগষ্টের পর আবার শুরু করার উদ্দ্যোগ নিলে শ্রমিক দলের সভাপতি মোহাম্মদ আলী আমার অফিসে বসে ব্যবসা শুরুর বিষয় আলোচনা করি। এর মধ্যে নুরুল আলম নামে এক ব্যক্তি নির্যাতিত মোটর শ্রমিক পরিচয়ধারী বিগত ১৭ বছরের মতো আমার ব্যবসা লুটেপুটে খেতে চায়। সে শ্রীমঙ্গল শ্রমিক দলের নাম ভাংঙ্গিয়ে নতুন বাজার লেবুর আড়ৎ ও পরিবহন থেকে অবৈধ ভাবে হবিগঞ্জ মিরপুরের রশিদ ব্যবহার করে চাঁদা তুলে। পরে জানতে পারি ইদানিং শ্রীমঙ্গল শ্রমিক দলের সভাপতি মোহাম্মদ আলী যোগসাজসে দলের নাম ভাংঙ্গিয়ে নুরুল আলম, ফয়েজ, ফারুক চাঁদা নিচ্ছে। এখন শুধু চাঁদার বিষয় নয়, আমাদের প্রাণ বেঁচে থাকা হুমকির মুখে। আড়ৎদাররা বলতে পারবে আমি নিজ পকেট থেকে চাঁদা দিচ্ছি। এই ব্যবসায় আমার এখনো বিনিয়োগ রয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
জমশেদ এন্টারপ্রাইজের মালিক ভুক্তভোগী জমশেদ খান কান্না জড়িত কন্ঠ বলেন, আমি ২৭ বছর ধরে লেবুর পরিবহন ব্যবসা করছি। এরকম নজির বিহীন ঘটনা কেউ করেনি। ইদানিং নুরুল আলমের নির্দেশে ফয়েজ নামে এক ব্যক্তি শ্রমিক দলের পরিচয় দিয়ে আমার লেবুর বস্তা প্রতি ৫০ টাকা করে চাঁদা নেয়। আমি রিসিট দেওয়ার কথা বললে পরে দেবে বলে। আমার নিকট থেকে জোর পুর্বক ৬ মে ২ হাজার, ৭ মে ১৭ শত, ৮ মে ২২ শত এই ভাবে প্রতিদিন টাকা নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী লেবুর আড়ৎদার বাবুল মিয়া বলেন, আমাদের এখানে কর্মচারী রয়েছে, তাদের কাছে হিসাব রয়েছে। নুরুল আলম আমার কর্মচারীর নিকট থেকে টাকা নিয়ে যায়। কত টাকা নিয়েছে আমি বলতে পারবোনা। আমার কর্মচারী বলতে পারবে। খাতায় লিখা আছে।
ভুক্তভোগী লেবুর পাইকার বাবলু মিয়া বলেন, প্রতি গাড়ীর লেবুর বস্তা থেকে ৫০ টাকা করে দেওয়া হয়। কারা নেয় পরিচয় জানিনা।
লেবু এর আড়ৎদার শ্রমিক পারভেজ বলেন, আমাদের গাড়ীর কমিশন আগে জমশেদ মামা, নুরুল আলম ভাই খাতায় লিখতেন। ইদানিং এই কমিশনের টাকা নুরুল আলম ভাই নেন।
অভিযোগকারী অস্বীকার করেছেন, নির্যাতিত পরিবহন শ্রমিক নুরুল আলম বলেন, আমি আমার টান্সপোর্ট থেকে গাড়ি লাগিয়েছি। আমি রিসিট দিয়ে বৈধ ভাবে কমিশনের টাকা তুলি। এব্যাপারে ৪ নং আসনের সংসদ সদস্য অবগত। আমি তাঁহাকে রিসিট দেখিয়েছি। চুক্তি মোতাবেক যত কমিশন তা দিয়ে যেতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশে আমরা গাড়ি দেই। বিগত ২৪ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত টাকা তুলেছেন মোসাব্বির আল মাসুদ।
মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন মোসাব্বির আল মাসুদ সাথে নির্যাতিত পরিবহন শ্রমিক নুরুল আলম টাকা তুলেন জানতে চাইলে বলেন, মোহাম্মদ আলী রং বলেছন।
অভিযোগকারী অস্বীকার করেছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার শ্রমিক দলের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, লেবুর বাজরের টাকা তুলার বিষয় আমি জড়িত নয়। মোসাব্বির আল মাসুদ একটি টিম তৈরী করেছেন। আর এই টিম তার সাথে বেঈমানী করেছে। আমার কাছে কাছে ভিডিও রয়েছে লেবুর বাজারের। আগে নুরুল আলম ও মোসাব্বির আল মাসুদের ম্যানেজার মিলে লেবুর বাজারের টাকা নিয়েছে। এখন শুধু টাকা তুলে নুরুল আলম। আর ৭০ হাজার কেন ৭০ পয়সা লেবুর বাজার থেকে নিয়েছি এমন কোন প্রমান আড়ৎদার বলে বা দেখাতে পারে আমি ৭০ হাজার মামলা মাথায় নেবো।
মৌলভীবাজার জেলা শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদক সেলিম আহমেদ বলেন, আমার সভাপতি দেশের বাহিরে। পরপরও শ্রমিক দলের কারও বিরোদ্ধে কোন অভিযোগ উঠে, আর তা যদি প্রমানিত হয়। আমরা সাথে সাথে দলী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
মৌলভীবাজার ৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন, আমি জনগনকে সচেতন করছি কেহ চাঁদা চাইলে আমাকে অবগত করার জন্য। আর বিএনপির নাম ভাংঙ্গিয়ে কেউ চাঁদা দাবী করলে আমাদেরকে নাম দেওয়ার জন্য। আমরা সাথে সাথে আইনি ব্যবস্থা নেবো।