চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার চন্দ্রাকান্দি গ্রামের গৃহবধূ রাবেয়া আক্তার (২৫)-এর মৃত্যু ঘিরে দেখা দিয়েছে রহস্য। এটি আত্মহত্যা, নাকি দীর্ঘদিনের যৌতুক নির্যাতনের ফল—তা নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের চন্দ্রাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ধারণা করলেও নিহতের পরিবারের দাবি, এটি প্ররোচিত মৃত্যু।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে একই এলাকার শাহ আলম (৩২)-এর সঙ্গে রাবেয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন ভালো থাকলেও পরবর্তীতে যৌতুকের দাবিতে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ।
এছাড়া স্বামী শাহ আলমের পরকীয়ার বিষয়টি নিয়েও দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান। এতে রাবেয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের মা জেসমিন আক্তার বলেন, “মেয়ের সুখের জন্য বারবার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্র দিয়েছি। তারপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।”
এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়েছে। নির্যাতন বন্ধের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিনও রাবেয়ার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি ঘরের ভেতরে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস নেন। তবে ঘটনার সময় ঘরে পরিবারের অন্য সদস্যদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠায়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে স্বামী শাহ আলমসহ চারজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬/৩৪ ধারায় মামলা (নং-৫৭) দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ইতোমধ্যে শাশুড়ি সাজেদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হলেও পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।